ফ্লোটিলার ২০১ আরোহী ইসরায়েলের হাতে আটক

ফ্লোটিলার ২০১ আরোহী ইসরায়েলের হাতে আটক
আলমায় ইসরায়েলি বাঁধা সরাসরি ধরা পড়ে ভিডিওতে। ছবি: গ্লোবাল সুমুদের লাইভ স্ট্রিমিং থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানবিক সয়াহতা নিয়ে ছুটে চলা নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ ২০১ আরোহীকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ফ্লোটিলার মুখপাত্র সাঈফ আবু কেশেক সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে এই ‘মিশন আপডেট’ জানান। তার দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ৪৪টি নৌযান নিয়ে গাজা উপকূলের উদ্দেশে যাত্রা করা নৌবহরের অন্তত ১৩টি জাহাজ ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে।

ওই নৌকাগুলোতে ৩৭টি দেশের ২০১ জনের বেশি আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে স্পেনের ৩০ জন, ইতালির ২২, তুরস্কের ২১ এবং ১২ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছেন কেশেক।

গ্লোবাল সুমুদের নৌযান থামিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। ছবি: রয়টার্স

তিনি আরও বলেন, ‘সম্মুখ সারির জাহাজগুলো ইসরায়েলি বাধা ও কঠোর নজরদারির শিকার হলেও বাকি সব জাহাজ তাদের “মিশন অব্যাহত” রেখেছে। ফ্লোটিলার বাকি প্রায় সব নৌযানই ভূমধ্যসাগরে গাজার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।’

আবু কেশেক বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৩০টি জাহাজ এখনো দখলদার বাহিনীর সামরিক নৌযানের আক্রমণ ঠেকিয়ে এগিয়ে চলেছে। তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তারা অনুপ্রাণিত, এবং গাজায় পৌঁছতে যা কিছু সম্ভব তা করছে; যেন ভোরের মধ্যেই সবাই একসঙ্গে গাজার উপকূলে পৌঁছে ইসরায়েলের “অবৈধ অবরোধ” ভাঙতে পারে।’

আরও পড়ুন

নৌযান আলমায় সহযাত্রীদের সঙ্গে গ্রেটা থুনবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
নৌযান আলমায় সহযাত্রীদের সঙ্গে গ্রেটা থুনবার্গ। ছবি: সংগৃহীত

গত বুধবার রাতে ফ্লোটিলার নেতৃত্বে থাকা জাহাজ ‘আলমা’ আটক করে এই সমুদ্রযাত্রার অন্যতম পরিকল্পনাকারী সুইডিশ মানবাধিকার কর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে নিয়ে যায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী। একই সঙ্গে সে জাহাজে থাকা অন্য আরোহীদেরও আটক করে ফ্লোটিলার সঙ্গে আলমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তারা। এরপর আদারা, অল ইন, অরোরা, ক্যাপ্টেন নিকোস, দেইর ইয়াসিন, ফ্লোরিডা, কার্মাসহ ১৩টি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েলি সেনারা।

তাদের দাবি, গ্লোবাল সুমুদের জাহাজগুলো অবৈধভাবে ইসরায়েলি সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করেছে। তবে ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব জাহাজ আটকের আগে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অবস্থান করছিল।

গ্লোবাল সুমুদের নৌযান থামিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (জিএসএফ)-এর কয়েকটি নৌযানকে ‘নিরাপদভাবে থামানো’ হয়েছে এবং সেসব নৌযানে থাকা সবাইকে অক্ষতভাবে ইসরায়েলি বন্দরে নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, ফ্লোটিলার জাহাজগুলোকে বার বার সতর্ক করার পরেও তারা ইসরায়েলি সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করে। একটি ‘চলমান যুদ্ধক্ষেত্রে’ প্রবেশ ঠেকাতেই এসব নৌযানকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সময় ২টা ৫৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়: সকাল ১০টা ৫০ মিনিট) গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ওয়েবসাইটে দেখা যায়, গাজার উদ্দেশে ছুটে চলা ৩০টি নৌযানের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ‘মিয়া মিয়া’। তাদের অবস্থান গাজা উপকূল থেকে কেবল ৪৩ নটিক্যাল মাইল দূরে। গন্তব্য গাজার বেইত সহুর এলাকা।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর