বিজয়ের মাস উদ্যাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসনের ‘অবহেলা’ ও ‘প্রশ্নবিদ্ধ’, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ‘বিতর্কিত’ প্রতিনিধির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে নিন্দা জানিয়েছে ঢাবি ছাত্রদল।
বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্গঠিত ঢাবি প্রশাসন নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বপ্নের দেশ গঠনের আকাঙ্ক্ষাকে ব্যাহত করছে।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে তথাকথিত যে প্রতিনিধিরা দায়িত্বে এসেছেন, তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও উসকানিমূলক মন্তব্য জাতির সামনে ঢাবি ও ডাকসুকে বারবার বিব্রত করছে।’
ছাত্রদল অভিযোগ করে, সম্প্রতি ডাকসুর ‘বিতর্কিত’ মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদকের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, যা শুধু ১৯৭১ সালের সংগ্রাম নয়, বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকেও অপমানিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঢাবি ছাত্রদল এই ধৃষ্টতাপূর্ণ ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।’
ছাত্রদল আরও অভিযোগ করে, বিজয়ের মাসের শুরুতে কলাভবন, কার্জন হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে উদ্যাপন করা দীর্ঘ দিনের এক ঐতিহ্য।
কিন্তু এবার ঢাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা করতে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। প্রশাসনের এই ‘দৃষ্টিকটু ও দায়িত্বজ্ঞানহীন উদাসীনতায়’ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাবি শুধু দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ নয়, বরং বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার এই ক্যাম্পাস।
অসংখ্য শহীদ, বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিবহ এই শিক্ষাঙ্গন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের তীর্থস্থান।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রদল জানায়, সেই আন্দোলন ছিল ঢাবি গৌরবময় ইতিহাসের আরেকটি মাইলফলক–যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং দেশের তরুণ প্রজন্ম ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আত্মত্যাগে উদ্যত হয়েছিল।


