গ্রেপ্তার না করলে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করব: লতিফ সিদ্দিকী 

গ্রেপ্তার না করলে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করব: লতিফ সিদ্দিকী 
শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন লতিফ সিদ্দিকী। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

শাপলা চত্বরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার না হলে আগামী রোববার বা সোমবার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

বুধবার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে এসে এ কথা বলেন তিনি।

লতিফ সিদ্দিকী বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তার নাম ১০ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আজ যদি আমি না আসি, তাহলে মনে করা হবে আমি আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না। আমি সব সময় আত্মপ্রকাশ করতে চাই। সে কারণেই আজ আদালতে এসেছি। এখন পুলিশ যদি আমাকে গ্রেপ্তার না করে, তাহলে আগামী রোববার বা সোমবার ট্রাইব্যুনালে গিয়ে নিজেকে সমর্পণ করব।’

এর আগে, গত ২৯ আগস্ট একই মামলায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান কার্জন, মো. আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান লতিফ সিদ্দিকী।

আরও পড়ুন

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশের পর গত ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক চলাকালে একদল ব্যক্তি স্লোগান দিতে দিতে সভাস্থলে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।

এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা অনুষ্ঠানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং কয়েকজন অংশগ্রহণকারীকে অবরুদ্ধ ও হেনস্তা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মহিউল ইসলাম বাবু, জাকির হোসেন, তৌছিফুল বারী খান, আমির হোসেন সুমন, আল আমিন, নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহাম্মদ আলী ও আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।

মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা প্রতিষ্ঠিত হলেও সবাই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, পালিয়ে যাওয়ার সময় হামলা এবং চিকিৎসার অভাবসহ যুদ্ধকালীন বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রাণ হারানো মানুষের সমষ্টিগত সংখ্যাই ৩০ লাখ। তিনি আরও বলেন, এ সংখ্যা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করা উচিত নয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad