ফিলিস্তিনের গাজা অভিমুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মানবাধিকারকর্মীদের আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
গাজাবাসীর জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়ার পথে ইসরায়েলি বাহিনীর অবরোধের মুখে পড়ে সুমুদ ফ্লোটিলা। ইসরায়েলের এমন আচরণকে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও ক্ষুধাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারে ইসরায়েলের ‘নির্লজ্জ প্রদর্শন’ হিসেবে বিবেচনা করছে ঢাকা।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আটক করা মানবাধিকার কর্মীদের দ্রুত ও শর্তমুক্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা ও ভালো থাকা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা বহনকারী জলযানটি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সারা বিশ্বের একতা প্রদর্শন করে। দখলদার ইসরায়েলকে অবশ্যই এসব জলযান গাজায় নির্বিঘ্ন প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। কারণ সেখানে বেসামরিক জনগণ তাদের মৌলিক জীবন, মর্যাদা ও জীবিকার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এমন দুর্দশার ও অব্যাহত কষ্টের সময়ে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করছে। গাজা ও পশ্চিম তীরে অবৈধ দখলের অবসান করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে গণহত্যামূলক যুদ্ধ বন্ধ করার ও মানবিক অবরোধ তুলে নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার উদ্দেশ্য সমুদ্রপথে গাজার জন্য মানবিক সাহায্য পাঠানো। গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনো থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথম বহর। ধীরে ধীরে এতে যুক্ত হয় নতুন নতুন নৌযান। সবশেষ এই বহরে যুক্ত হয়েছিল বিভিন্ন দেশের ৪০টি নৌযান। যেগুলোয় গাজার জন্য সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিলেন অন্তত ৪৪ দেশের ৫০০ মানুষ।
নৌযানগুলো যখন গাজা থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে, সেসময় তাতে বাধা দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। বহরের অন্তত ১৩টি নৌকা থামিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সেইসঙ্গে নৌকার আরোহি মানবাধিকারকর্মীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। যাদের মধ্যে রয়েছেন সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গও।


