বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পরিপত্রটি ভুয়া বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং সপ্তাহে দুদিন হোম অফিস চালুর বিষয়ে গতকাল বুধবার একটি স্মারক পত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের কোনো স্মারক পত্র জারি করা হয়নি। তাই এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বাংলাদেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার।
মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ে কমপক্ষে আটটি পদক্ষেপ আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে তিনদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া ছাড়াও অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কোন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে, তা মন্ত্রিসভায় ঠিক করা হবে বলেও জানান কর্মকর্তারা
তার আগেই গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হোম অফিস সংক্রান্ত একটি ভুয়া পরিপত্র ছড়িয়ে পড়ে। তাতে বলা হয়, আগামী ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর কর্মচারীরা বুধ ও বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে কাজ করবেন। রবি, সোম ও মঙ্গলবার অফিস খোলা থাকবে এবং শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
ওই পরিপত্রে অফিস খোলা থাকার দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিসের কার্যক্রম চালানো এবং বাকি দুদিন দাপ্তরিক কাজগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়।
তবে হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মত জরুরি পরিষেবা দেওয়া সংস্থাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে এবং তাদের নিজস্ব বিধি মোতাবেক নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলেও ওই স্মারক পত্রে জানানো হয়।


