আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় আসামি চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পক্ষে ষষ্ঠবারের সময় আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। একই সঙ্গে মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী (পিডব্লিউ-১) নিহত আলিফের বাবার সাক্ষ্য শেষে পরের সাক্ষীর প্রতি সমন জারির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ জুন।
বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি হয়। এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য ‘উপস্থিত সাক্ষীকে জেরা করার জন্য সময়ের আবেদন’ শীর্ষক একটি দরখাস্ত জমা দেন। এতে বলা হয়, নিয়োজিত আইনজীবী শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে সাক্ষী জেরার জন্য সময় প্রার্থনা করা হচ্ছে।
তবে আদালতে দরখাস্ত জমা দেওয়া হলেও নিয়োজিত আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে অন্য কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস ইউ নুরুল ইসলাম আদালতে বলেন, নিয়োজিত আইনজীবী শুধু সই করা দরখাস্ত পাঠিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে সময় চাইতে পারেন কি না, তা প্রচলিত আদালত প্র্যাকটিসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন শুনানি ছাড়াই নামঞ্জুর করেন। পাশাপাশি জামিন, চিকিৎসা ও সময় চেয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষ থেকে করা আরও তিনটি আবেদনও আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে শুনানি ছাড়াই নামঞ্জুর করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, বুধবারের শুনানিতে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হন। এ ছাড়া অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিকালে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস আদালতের অনুমতি নিয়ে তার মা ও আশ্রমের দুই সন্ন্যাসীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানান।
এর আগে, গত ১৯ জানুয়ারি মামলায় অভিযোগ গঠনের পর ২ ফেব্রুয়ারি নিহত আইনজীবী আলিফের বাবা প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে জেরা কার্যক্রম সম্পন্ন না করে সময় আবেদন করে আসছে আসামিপক্ষ। এ নিয়ে মোট ছয়বার সময় আবেদন করা হয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, প্রায় ৮০ বছর বয়সী নিহত আলিফের বাবা অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি ধার্য তারিখে লোহাগাড়া থেকে আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন। কিন্তু বারবার সময় মঞ্জুর হওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আদালতে আমাদের পক্ষ থেকে জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত যথার্থ বিবেচনায় পিডব্লিউ-১-এর সাক্ষ্য সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন। আমরা আশা করছি, দেশ-বিদেশে আলোচিত এই স্পর্শকাতর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলাটি দ্রুত ও বিচারসম্মত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে।’


