প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে নেওয়া সরকারের নতুন উদ্যোগ মিড-ডে মিল যেন আশায় গুড়ে বালি। সরবরাহ শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাকা কলার বদলে কাঁচাকলা দেওয়া, খাবার না দেওয়া কিংবা পরিমাণে কম দেওয়াসহ উঠেছে নানা অভিযোগ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এমন মানহীন খাবার শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি খাবার সরবরাহ করার আগে তারা প্রতিষ্ঠান প্রধান বা জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের সাথেও যোগাযোগ করছেন না।
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের যাদুরচর নতুন গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যাদুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বাউশমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বারোবাদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ রৌমারীর একাধিক বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে একই অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্কুলগুলোর জন্য যে মিড-ডে মিল রয়েছে তার তালিকা অনুযায়ী, রোববার বনরুটি ও সেদ্ধ ডিম, সোমবার বনরুটি ও তরল দুধ, মঙ্গলবার ফর্টিফায়েড বিস্কিট ও স্থানীয় মৌসুমি ফল বা কলা, বুধবার বনরুটি ও সেদ্ধ ডিম এবং বৃহস্পতিবারও বনরুটি ও সেদ্ধ ডিম। এক্ষেত্রে কোন খাবার কতটুকু পরিমাণে দিতে হবে তাও গ্রাম হিসেবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে।
রৌমারী উপজেলার চর বারোবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফুল হক বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে ৯৪ জন শিক্ষার্থী। ১৮ তারিখ ৭০ জনের জন্য ডিম ও রুটি পেয়েছি। ১৯ তারিখ শুধু রুটি পেয়েছি, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো খাবার আমার বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়নি।’
যাদুরচর নতুন গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক বেগম মনোয়ারা বলেন, ‘খাবার সরবরাহ শুরু হয় ১৮ তারিখ। ওইদিন রুটি ও কলা দিয়েছে, কিন্তু পরিমাণে কম ছিল। ১৯ তারিখ দিয়েছে শুধু রুটি। এরপরে আর কোনো খাবার সরবরাহ করেনি। এখন শুধু কলা দিয়ে গেছে, তবে সে কলা একেবারে কাঁচা। যা খাওয়ার উপযুক্ত নয়। আগামী সাত দিনেও সেই কলা খাওয়ার উপযোগী হবে না।’
‘আমি ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে ফোন দিয়েছি। তার কথা অনুযায়ী, শতকরা ৩০ ভাগ দাম কমিয়ে তারা খাবার সরবরাহের কাজ নিয়েছেন, তাই এই খাবার বিতরণে কিছুটা সমস্যা হবেই।’
জানতে চাইলে ঐ প্রতিষ্ঠানে কাঁচাকলা সরবরাহ করা সাবঠিকদার লিপু জানান, তাদের কলা সরবরাহ করার জন্য যে পাইকার আছে সেই পাইকার মূলত কাঁচা কলা সরবরাহ করেছে। এটা তাদের অনিচ্ছাকৃত ভুল।
আগামীতে এ ধরনের ভুল হবেনা বলেও জানান তিনি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাদ্য সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ঐ প্রতিষ্ঠানের জেলা সমন্বয়কারী রায়হান বলেন, ‘আমরা খুব কম সময়ের মধ্যে ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছি। উপজেলা অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার কিংবা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি এখনও। আপাতত হয়তো কিছু ঝামেলা হচ্ছে। আশা করি, ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে সঠিকভাবে কোনো ঝামেলা ছাড়াই খাবার সরবরাহ করতে পারব।’
রৌমারী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মঈনুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছেও এরকম অভিযোগ এসেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব।’
গত ১৮ তারিখ থেকে রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় মিড-ডে মিল চালু হয়েছে জানিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, ‘রৌমারী উপজেলার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঠিকাদার আমাদের কাছে কোনো এগ্রিমেন্ট (চুক্তিপত্র) দেয়নি, আমাদের সঙ্গে দেখা করেনি। তারা নিজে-নিজেই এই কাজটি করছে।’
এ বিষয়ে পদক্ষেপ কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারকে তো অবশ্যই শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমেই বিল নিতে হবে। তখন শিক্ষা অফিসার বিলের বিষয়ে অবশ্যই হস্তক্ষেপ করবেন।’


