গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বসতভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ফাহমিদ রুমন (২০) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার বড় ভাই ফারদিন রুহিত গুরুতর আহত হয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোববার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ত্রিমোহনীর পেয়ারাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহমিদ রুমন ওই এলাকার মৃত ফারুক ইসলামের ছেলে এবং গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত রুমনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী ছানা মিয়ার ছেলে আকিফ আহসানের বসতভিটার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি তারা সরকারি আমিন (ভূমি পরিমাপক) এনে পরিমাপের মাধ্যমে নিজেদের বাড়ির সীমানা নির্ধারণ করেন। ঘটনার দিন রাতে নির্ধারিত সীমানায় দেয়াল তুলতে গেলে প্রতিবেশী ছানা মিয়া ও তার লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে আকিফ আহসান ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে রুমন ও তার বড় ভাই রুহিতকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে ফাহমিদ রুমনের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফারদিন রুহিত বলেন, ‘আমিন দিয়ে মেপে সীমানা ঠিক করার পর আমরা দেয়াল তুলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ছানা মিয়া ও তার ছেলে আকিফ আমাদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালায় এবং আমার ছোট ভাইকে ছুরিকাঘাত করে মেরে ফেলে। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাড়ির সীমানা বিরোধের জেরে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


