ঢাকার উত্তরায় একটি কুরিয়ার কোম্পানির বুথের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ইভটিজিং বা নারীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদ করায় সহযোগীদের নিয়ে দুজনকে মারধর করারও অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাম কৃষ্ণ রায় ও তার সহকর্মী মো. হাসিম উদ্দিন রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৩৪ নম্বর সড়কে চা পান করতে যান। সেখানে সোনারগাঁও জনপথের কুরিয়ার কোম্পানির বুথের কর্মচারী রহমান ও তার কয়েকজন সঙ্গী তাদের উপর লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে দুজনই আহত হন। পরে তাদের কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রাম কৃষ্ণ রায় তার লিখিত অভিযোগে বলেছেন, ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ অক্টোবর। ওইদিন উত্তরা সোনারগাঁও জনপথের ৫নং ভবনের লিফটে জায়গা না থাকায় তাদের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তার কন্যা ৫ম তলায় লিফটের সামনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লিফটে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। এসময় ভেতরে থাকা ওই কর্মচারী তাদের উদ্দেশে অশোভন আচরণ, অঙ্গভঙ্গি করেন। বিষয়টি ভবন কর্তৃপক্ষ ও কুরিয়ার কোম্পানির বুথের ম্যানেজারকে জানানো হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রোববার দুপুরে একই ভবনে ইভটিজিংয়ের শিকার ওই দুই নারী রহমানকে লিফটে দেখে অস্বস্তি বোধ করেন ও নামতে বলেন। তারা তাকে বলেন, তার বুথ গ্রাউন্ড ফ্লোরে সে কেন গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে বেইজমেন্টে নেমেছে এবং লিফট থেকে না নেমে আবারো কেন উপরে যাচ্ছে? এতে রহমান উত্তেজিত হয়ে গালাগালি করতে থাকে।
টাইমস অব বাংলাদেশ-এর হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজেও রহমানকে গ্রাউন্ড ফ্লোর (যেখানে কুরিয়ার কোম্পানির বুথ) থেকে উঠতে দেখা যায় এবং বেইজমেন্টে লিফট থামলে সে না নেমে নারীদের দেখে লিফটে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করে। আর দুই নারী তাকে বার বার লিফট থেকে নামতে ইশারা করছিলেন। এক পর্যায়ে রহমানকে উত্তেজিত হতে দেখা যায়। তখন রাম কৃঞ্চ এসে রহমানকে লিফট থেকে নামিয়ে নিলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে রহমান দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
বিল্ডিং এসোসিয়েশনের কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ গত বহস্পতিবার ইভটিজিংয়ের অভিযোগ পেয়েছিলেন। এ বিষয়ে কুরিয়ার কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনও সহযোগিতা পাননি বলে টাইমসকে জানান তিনি।
রোববার দুপুরে কুরিয়ার কোম্পানির হেড অফিসের বেশ কয়েকজন এসে ঘটনার মীমাংসা করতে বলেন আব্দুল মজিদকে।
‘আশিক’ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কুরিয়ার কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয়ে ‘মীমাংসার জন্য’ চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমরা শুধু জব করি না, অন্য কিছুও করি। প্রয়োজনে ৩ হাজার কর্মচারী নিয়ে ঘটনা ঘটিয়ে দিব।’
এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় ৩৪ নং সড়কে গিয়ে রহমান ও তার সহযোগীরা রাম কৃষ্ণ ও হাসিমকে মারধর করে। ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ভবিষ্যতে একই ধরনের আরো হামলার আশঙ্কা করছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কুরিয়ার কোম্পানির উত্তরার ম্যানেজার নাঈম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে আশিক নামের ব্যক্তিও কোনো মন্তব্য না করে পাল্টা হুমকি দিয়ে ‘যা খুশি লিখে দিতে’ বলেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি (তদন্ত) অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।


