ময়মনসিংহে দিনে-দুপুরে মিজানুর রহমান রুবেল ওরফে কাইল্যা রুবেল (৪০) নামে এক যুবককে ঘরে ঢুকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোড ছত্রিশবাড়ী এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত রুবেল ওই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে। এলাকায় তিনি মাদকসেবী ও চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় রুবেল ওই এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ঘরে ঢুকে প্রথমে তাকে বাঁশ দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটায়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে জবাই করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম জানান, নিহত রুবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে নারীঘটিত বা পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রুবেল যে বাসায় ভাড়া থাকতেন, সেই বাসার মালিকের স্ত্রীর সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই নারী ও তার চার ছেলে ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাদের আটক করতে পারলে প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো ছত্রিশবাড়ী এলাকায় চরম থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে ওই কলোনির মাদকসেবী ও বখাটেরা অনেকেই এলাকা ছেড়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, র্যাব ও পিবিআই যৌথভাবে কাজ করছে।


