কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশে জামিনের কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আব্দুস সালাম (৪৯) ও মো. সুরুজ (২৬)।
শুক্রবার ডিএমপির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি জানায়, গ্রেপ্তাররা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে তাদের ফোন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার আসামিদের বিষয়ে তথ্য নিয়ে আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
আসামির পরিবারের সদস্যদের কাছে নিজেদের একজনকে ‘কারারক্ষী সাইফুল, কারাগার প্রধান ফটক, কাশিমপুর কারাগার’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হতো। এরপর বলা হতো, তাদের স্বজনের জামিন মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবী ‘সিরাজ’-এর মাধ্যমে হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বরও দেওয়া হতো।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে ফোন করলে প্রতারক নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে নরম স্বরে কথা বলত এবং জানাত, আসামির জামিন হয়েছে। আদালতের অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং তার হাতে সময় কম।
এরপর ভুক্তভোগীদের কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হতো। পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে টাকা পাঠানোর পর প্রতারক টাকা তুলে নিয়ে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে দিত এবং মুহূর্তের মধ্যে দোকানের এলাকা থেকে সরে পড়ত।
ডিবি সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা বিকাশ/নগদ প্রতারণার একটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান চলছে।
অপরিচিত কারও কথায় যাচাই-বাছাই ছাড়া আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি। কেউ ফোন বা অনলাইনে পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।


