নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হোসেনসহ একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এ সময় তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগও রয়েছে।
শুক্রবার রাতে জামপুর ইউনিয়নের বস্তল উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মোহাম্মদ হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যরা হলেন তার স্ত্রী তুলি আক্তার, মা নূর বানু ও বোন ইয়াসমিন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বস্তল উত্তরপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেনের শ্বশুর বিএনপি নেতা মো. আমানউল্লাহ মিয়া। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে বিএনপি কর্মী মাসুদ মিয়া, রোকন উদ্দিন ও মামুন মিয়ার সঙ্গে বিরোধ চলছিল।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর রোকন উদ্দিনের সঙ্গে মোহাম্মদ হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোহাম্মদ হোসেন তাকে থাপ্পড় দেন।
পরিবারের অভিযোগ, এর জেরে সন্ধ্যায় রোকন উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে ঘরে ঢুকে ফ্রিজ, টিভি, আলমারি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। মোহাম্মদ হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তার স্ত্রী, মা ও বোনকেও মারধর করা হয়।
ইয়াসমিন বলেন, ‘হামলাকারীরা আমার ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমাদেরও মারধর করে। পরে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।’
তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সেলিম মিয়া বলেন, ‘হামলা ও গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।’
তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক জসিমউদ্দীন বলেন, ‘হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গুলি ছোড়ার বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিক বলেন, ‘হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’


