হাইকোর্টের নির্দেশের পরও মোহাম্মদপুরের ‘জনতার বাজার-১’-এর প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাজারটির উদ্যোক্তারা।
তাদের দাবি, গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজারটির দখল ও বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ দিলেও ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে উদ্যোক্তাদের অনুপস্থিতিতে বাজারে তালা দেওয়া হয়।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বাজারটির উদ্যোক্তা মো. বোরহান উদ্দিন ও সানোয়ারুল হক সনি।
তারা আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার পাশাপাশি তালা দেওয়ার সিদ্ধান্ত, বাজারের নীতিমালা পরিবর্তন, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি জানান।
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তা কৃষক ও উৎপাদকদের কাছ থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য সংগ্রহ করে ঢাকার ভোক্তাদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির উদ্যোগ নেন।
এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২৫ সাল থেকে তারা জনতার বাজার-১ পরিচালনা করে আসছেন।
তারা বলেন, বাজার পরিচালনার চুক্তি বাতিল করে ১২ জুলাই তাদের একটি চিঠি দেওয়া হয়। এতে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে বাজারের হিসাব জেলা প্রশাসনের কাছে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়।
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে রিট করেন। মামলায় বিচারপতি রেজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১ সেপ্টেম্বর আদেশ দেন।
উদ্যোক্তাদের দাবি, আদালত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজারটির দখল ও বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখার স্ট্যাটাস কো দিয়েছেন। মামলাটি প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য ১৪ সেপ্টেম্বরের কার্যতালিকায় উপস্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, ২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে আদালতের আদেশ সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং পরে আদেশের সত্যায়িত অনুলিপিও দেওয়া হয়। এর পরদিনই বাজারে তালা দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তারা প্রশ্ন তোলেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় কোনো আইনি বা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে বাজারে তালা দেওয়া হলো। তাদের দাবি, বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে হবে।
বাজারের নীতিমালা পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, শুরুতে কৃষক ও উৎপাদকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব থাকলেও বাজারের বিক্রয় ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব ছিল জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত কর্মচারীদের। পরে কর্মচারীদের বেতনসহ অতিরিক্ত আর্থিক দায় উদ্যোক্তাদের ওপর দেওয়া হলেও নিয়োগ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জেলা প্রশাসনের কাছেই রাখা হয়।
কসাইখানা নির্মাণের জন্য টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও উত্তোলন করা হলেও নির্ধারিত স্থানে কসাইখানা নির্মাণ হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা। অর্থের বরাদ্দ, উত্তোলন ও ব্যয়ের তদন্ত দাবি করেন উদ্যোক্তারা।
এ ছাড়া কামরাঙ্গীরচরের জনতার বাজার-২-এর অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ২ কোটি টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় এবং সাত মাসেও উদ্যোক্তা নিয়োগ না হওয়ার দাবি তুলে দুই বাজারের সরকারি অর্থ, অবকাঠামো ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তারা ১০ দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজারের দখল ও বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখা, ৩ সেপ্টেম্বর তালা দেওয়ার ঘটনা ও এর আইনি ভিত্তি তদন্ত, জনতার বাজার-১ ও ২-এর সরকারি অর্থের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা এবং টিআর প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের তদন্ত।
একই সঙ্গে বাজারের নীতিমালা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া যাচাই এবং উদ্যোক্তাদের ওপর কর্মচারীদের বেতন-ভাতার দায় চাপানোর আইনগত ভিত্তি প্রকাশের দাবি জানান তাঁরা।
এ ছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের তদন্ত, উদ্যোক্তাদের বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত, বাজার বন্ধ থাকায় তাদের ক্ষতির দায় নির্ধারণ এবং বিচারাধীন বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা মেনে জনতার বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দাবি জানান উদ্যোক্তারা।


