বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও প্রয়াত রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জামালপুর সমিতি, ঢাকার উদ্যোগে ‘সালাম তালুকদার: নেতা ও মানুষ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক উত্তরসূরি জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম। প্রধান আলোচক ছিলেন জামালপুর সমিতির মহাসচিব ও ক্যান্সার প্রতিরোধ আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেওয়ার সময় এরশাদের নানা প্রলোভনে দলের অনেক নেতা তাকে ছেড়ে চলে যান। ওই সময়ে খালেদা জিয়া ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারকে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। তিনি সেই আস্থার যথাযথ মর্যাদা রেখেছেন।
সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রাসকিন বলেন, তার গভীর দেশপ্রেম, প্রশ্নাতীত সততা, উন্নত শিক্ষা ও মননশীলতা এবং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ তাকে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনমনে আলাদা অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছিল।
নিজের চিকিৎসক হয়ে ওঠা এবং অর্থবিত্তের পেছনে না ছুটে ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে কাজ করার পেছনে চাচা সালাম তালুকদারের অনুপ্রেরণার কথাও স্মরণ করেন রাসকিন।
তিনি জানান, সালাম তালুকদারের আগ্রহ ও অনুপ্রেরণায় তিনি ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। একই সঙ্গে ঢাকা ও দিনাজপুরে অলাভজনক সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগেও তিনি শামিল হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই। কিন্তু নীতি ও আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রজ্ঞাবান মানুষের বড় অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন তেমনই একজন বিরল রাজনীতিবিদ, যিনি ক্ষমতার ভেতরে থেকেও বিনয়ী থাকতে জানতেন। দলকে সুসংগঠিত রাখতে তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সালাম তালুকদারের ভূমিকার প্রশংসা করে মান্না বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি তার সৌজন্যবোধও ছিল অনুসরণীয়। আজকের রাজনীতিতে এমন দৃষ্টান্ত বিরল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার শুধু জামালপুর বা বিএনপির নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন এ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের অভিভাবক।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার তার কাছে বটবৃক্ষের মতো ছিলেন। তার ছায়াতলে থেকেই দেশপ্রেম ও রাজনীতির আসল পাঠ গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও কীভাবে মাটির কাছাকাছি থাকা যায় এবং মানুষের মন জয় করা যায়, তা সালাম তালুকদার দেখিয়ে গেছেন। তার আদর্শ অনুসরণ করেই তিনি দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জামালপুর সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক মহাসচিব মো. নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মুজিবুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, হাসিনুর রহমান চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হাসানুজ্জাম শিবলী, মেজর (অব.) আব্দুর রব ও ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম।
জামালপুর সমিতির সহসভাপতি আফজাল খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন সমিতির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর আকন্দ।
অনুষ্ঠানের সবশেষে ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।


