ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রকেন্দ্রিক ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২-এর দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। সোমবার সকালে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় প্রায় এক মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানে।
এপির বরাতে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাত লাখের বেশি মানুষের বসবাসকারী বন্দরনগরী জেনারেল সান্তোস। টুনা মাছ রপ্তানি ও বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শহরটিতে কয়েকটি ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।
আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জেনারেল সান্তোসে সাতজন নিহত ও প্রায় ১৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোটাবাটো, দাভাও অক্সিডেন্টাল এবং বালুত দ্বীপে ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে, মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ভূমিধসের ঘটনায় আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেনারেল সান্তোসে একটি দুইতলা বিদ্যালয় ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিলিপাইনের পুলিশ জানিয়েছে, শহরটিতে অন্তত সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর সোমবারই দেশজুড়ে সরকারি স্কুলগুলো পুনরায় খুলেছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকালের সমাবেশে অংশ নেওয়া শতাধিক শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং অনেকে আহত বা অজ্ঞান হয়ে যায়।
ভূমিকম্পের কারণে জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল করা হয়েছে অন্তত ১৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট।
ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। সারাঙ্গানি ও সুলতান কুদারাত প্রদেশে প্রায় এক মিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। সারাঙ্গানির কিয়াম্বা এলাকায় একপর্যায়ে ১ দশমিক ৪ মিটার উচ্চতার ঢেউ পরিমাপ করা হয়।
সুনামির প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের জাম্বোয়াঙ্গা দেল সুর প্রদেশের একটি উপকূলীয় গ্রামে খুঁটির ওপর নির্মিত ছয়টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফিলিপাইনের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, পালাউ, মালয়েশিয়া এবং জাপানের কিছু অংশেও সুনামির ঢেউ দেখা গেছে। ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের উপকূলে ৮৩ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। জাপানের কিছু উপকূলীয় এলাকায়ও সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি অনেকটাই কেটে গেছে। তবে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির ভূকম্পন ও আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছরে ফিলিপাইনে আঘাত হানা এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সারাঙ্গানি প্রদেশের মাসিম শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে সমুদ্রের নিচে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির পর ৬ দশমিক ৫ মাত্রা পর্যন্ত একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইন বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।


