নেপালের পোখরা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েদের শরীরী ভাষায় আত্মবিশ্বাসের কমতি ছিল না। কিন্তু গ্রুপ পর্বে যে ভারতকে বাংলাদেশ হারিয়েছিল, সেই ভারতই ফাইনালে রুদ্রমূর্তি ধারণ করল। শনিবার সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জয় করেছে ভারত। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠে আসা পিটার বাটলারের শিষ্যরা শেষ ধাপে এসে ভারতের শারীরিক শক্তি ও নিখুঁত প্রেসিং কৌশলের কাছে পুরোপুরি অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে লড়লেও বাংলাদেশ নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছিল না। উইং ব্যবহার করে মাঠের পরিধি বাড়িয়ে আক্রমণের যে পরিকল্পনা বাংলাদেশের ছিল, ভারত তা সুচারুভাবে রুখে দেয়। গোলশূন্য প্রথমার্ধ যখন শেষের পথে, ঠিক তখনই এক ট্যাকটিক্যাল ভুলে ছন্দ হারায় বাংলাদেশ।
আলভা দেবী ও পাল ফার্নান্দেজকে ডান প্রান্তে মার্ক করতে গিয়ে বাংলাদেশের ৫ জন খেলোয়াড় একদিকে ঝুঁকে পড়লে বক্সের মাঝ অংশ পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জুলান সহজ এক ‘ট্যাপ-ইনে’ ভারতকে লিড এনে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন তৃষ্ণা। গোলরক্ষককে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন তিনি। এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্রপট ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু সেই ভুলের মাশুল দিতে হয় ৬১ মিনিটে। ডি-বক্সের ভেতর ইয়ারজানের একটি ‘সফট পুশ’ থেকে আলভা দেবী পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৬২ মিনিটে সফল স্পট-কিকে ব্যবধান ২-০ করেন এলিজাবেথ।
ম্যাচের আগে পিটার বাটলার সতর্ক করেছিলেন ভারতের শারীরিক ফুটবল নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, ‘ম্যাচটি কঠিন হবে কারণ ভারতের দলে বেশ কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। ওরা শারীরিক দিক থেকে শক্তিশালী এবং লম্বাও; লড়াইটা তাই বেশ কঠিন হবে।’ কোচের সেই আশঙ্কাই সত্যি হয় ৬৮ মিনিটে। ব্যাকপাস ধরে রাখতে গিয়ে গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম দেরি করে ফেললে পাল ফার্নান্দেজ দারুণ প্রেসিংয়ে বল কেড়ে নিয়ে তৃতীয় গোলটি করেন।
ম্যাচের শেষ দিকে মুঙ্কি আক্তার ও কৃষ্ণা রানী দূরপাল্লার কিছু শট নিলেও তা ভারতীয় গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলার মতো ছিল না। ৮৩ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বল মার্কিংয়ের সুযোগ নিয়ে অন্বিতা রঘুরামান চতুর্থ গোলটি করলে বাংলাদেশের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। মূলত ভারতের আগ্রাসী প্রেসিং এবং বাংলাদেশের রক্ষণাত্মক ও গোলকিপিং ভুলের সমন্বয়ই গতবারের চ্যাম্পিয়নদের শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


