ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের করীর হাট দাখিল মাদ্রাসায় টানা ২২ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এর ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে মাদ্রাসাটির প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, অফিসের কাজকর্ম এবং প্রতিদিনের শিক্ষা কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় এক বাসিন্দার জায়গার ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ লাইনে আগুন লাগার পর এই সমস্যা তৈরি হয়। পুড়ে যাওয়া লাইনটি সংস্কার করে বিদ্যুৎ সচল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জায়গার মালিক এতে বাধা দেওয়ায় মাদ্রাসাটি দীর্ঘ দিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে।
এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক অভিহিত করে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ এবিএম রইসউদ্দিন বলেন, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ২২ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে বারবার যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্টাফরা নানা সমস্যায় পড়ছেন। এই তীব্র গরমের মধ্যে ক্লাস নেওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর জন্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
যে জায়গার ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইনটি গিয়েছে, সেই সম্পত্তির মালিক নূরা শেখের স্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।
সদরপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, আগুনের ঘটনার পর ওই জায়গায় নতুন করে বিদ্যুৎ লাইন তৈরি করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী নতুন লাইনটিও ওই বাসিন্দার জায়গার ওপর দিয়েই নিতে হবে। কিন্তু এখন ওই বাড়ির লোকজন লাইন নিতে অনুমতি দিচ্ছেন না।
তিনি আরও জানান, তারা স্থানীয় লোকজনের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং আশা করছেন যে খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।
সদরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোফাজ্জেল হোসেন জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন এ বিষয়ে জানান, ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মাদ্রাসার অভিভাবক এবং কর্তৃপক্ষ এই সংকট কাটানোর জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তারা চান যেন শিক্ষার্থীরা আর কোনো দেরি ছাড়াই তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা শুরু করতে পারে।


