প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নান্দনিক বোধ ও সাংস্কৃতিক বিকাশে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ নামে নতুন পাঠ্যবই চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বইটিতে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে পারে।
তিনি বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতিকে কেবল সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই নতুন কারিকুলামে শিল্প, সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ জানান, ২০২৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলামে শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর আগে ২০২৭ সালে চতুর্থ শ্রেণির জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ পাঠ্যবই চালু করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী ৫ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নে দক্ষ শিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও পেশাগত প্রস্তুতির বিষয়গুলোও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


