সহকারী শিক্ষকদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা পণ্ড হয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে না ফিরলে চাকরিবিধি ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষার তৃতীয় দিনে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অবস্থান নেন শিক্ষকেরা। পরীক্ষা না নেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকটি স্থানে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে শিক্ষকদের। তবে শিক্ষা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে কিছু স্থানে প্রধান শিক্ষকরা পরীক্ষা নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা।
এরপর বিকালে শিক্ষকদের কর্মবিরতি এবং ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ প্রত্যাহার করে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শ্রেণি কার্যক্রমে না ফিরলে শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ এর আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ শিক্ষকদের সঙ্গে রাতে জুম মিটিংয়ে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ‘সারা দেশের শিক্ষক প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে মতামত জানবেন। তারা যদি না কর্মসূচি পালন করতে না চান, তাহলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে। শিক্ষকরা চাইলে দাবি আদায় না হওয়া পর্যণ্ত কর্মসূচি চলবে।’
সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতির মধ্যেও বার্ষিক পরীক্ষার প্রথম দুই দিন অভিভাবক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহায়তায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে তৃতীয় দিনই বিদ্যালয়ে তালা দেওয়ায় অনেক স্থানেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
বুধবার ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলায় পরীক্ষা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাসেম।
কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, পিরোজপুরসহ কয়েকটি স্থানে স্কুলে তালা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকদের হাতহাতির ঘটনা ঘটেছে।
চাঁদপুরের উত্তর মতলব উপজেলার ১৮০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩০টিতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং বাকি ১৫০টিতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ মোল্লা।
মূলত, সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, চাকরির ১০ম ও ১৬তম বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকেরা।


