প্রশিক্ষণ হবে প্রবলেম সলভিং: প্রধান উপদেষ্টা

প্রশিক্ষণ হবে প্রবলেম সলভিং: প্রধান উপদেষ্টা
ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
Advertisement
Advertisement

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ)।

গত ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নবম সভায় জনপ্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও তাদের চলমান কার্যক্রম মূল্যায়নের মাধ্যমে মানোন্নয়নের নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। ওই নির্দেশনার আলোকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ইউনিটটির কার্যপরিধি পুনর্বিন্যাস করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করা হয়। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির কারিগরি সহায়তায় জিআইইউ এ মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে–বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি–মূল্যায়নের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারের সার্ভিসে বা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। এমন ব্যবস্থা ও দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন হয় এবং এক রুম থেকে আরেক রুমে ফাইল আটকে না থাকে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো—নাগরিক যেন সরকারের কাছে না যায়, বরং সরকারের সেবা সরাসরি নাগরিকের কাছে পৌঁছে যায়।

আরও পড়ুন

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের অবকাঠামো থাকলেও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও পাঠ্যবিষয় পুরোনো। ফলে প্রশিক্ষণ হলেও তার বাস্তব ফল চোখে পড়ে না। এই ব্যবস্থায় প্রযুক্তি যুক্ত করতে হবে এবং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ, ফলাফল ও নম্বরের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। ভালো ফল অর্জনকারীদের ইনসেনটিভ দিতে হবে, যাতে তারা উৎসাহিত হয়।

তিনি আরও বলেন, গৎবাঁধা প্রশিক্ষণ নয়, প্রশিক্ষণ হবে প্রবলেম সলভিংভিত্তিক। একেকজন যে বিষয়ে দক্ষ, অন্যরা তার কাছ থেকে শিখবে। ভালো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও র‌্যাংকিং চালু করতে হবে। বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে, যাতে ভালো প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নেওয়া একটি গর্বের বিষয় হয়ে ওঠে।

বৈঠকে কমিটির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও তাদের কার্যক্রম মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় মানদণ্ড নির্ধারণ, সূচক নির্বাচন এবং পরিমাপ কৌশল ঠিক করা ছিল একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ।

এ লক্ষ্যে একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি জানায়, সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে উত্তম চর্চা অনুসরণ করে এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পর্যায়ভিত্তিক বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর উন্নয়ন সম্ভব হয়।

প্রতিবেদনের আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে এবং জিআইইউ’র সহায়তায় সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়েরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad