সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদনই করা হয়নি: জেলা প্রশাসক

সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদনই করা হয়নি: জেলা প্রশাসক
Advertisement
Advertisement

প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার পরও ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হয়নি—এমন দাবিকে মিথ্যা বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

তিনি জানান, সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তিসংক্রান্ত কোনো লিখিত আবেদন যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়নি।

রোববার টাইমস অব বাংলাদেশে’র কাছে তিনি একথা বলেন। প্যারোলে মুক্তির আবেদনের পরও সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদও জানান জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়। কারণ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদনই করা হয়নি। তবে পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ কারাফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে।

এসময় তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য অনুরোধ জানান।

এ ছাড়া যশোর জেলা প্রশসাকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম গত ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত হন। তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও শিশু সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত আবেদন করা হয়নি।

আরও পড়ুন

জেলা প্রশাসন জানায়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে—সময়ের স্বল্পতার কারণে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে পারিবারিক সিদ্ধান্তে কারাগারের গেটেই মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব ছবি ও চিঠি ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলোর সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাতে সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, ‘সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি এবং প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করি। কিন্তু তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।’

এদিকে সাদ্দামের পরিবারের আবেদনের একটি কপি টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, আবেদনটি যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে নয়, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর করা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এরপর তাকে যশোর কারাগারে রাখা হয়।

জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই নিথর পড়েছিল ৯ মাসের শিশু নাজিম। পুলিশ ও সাদ্দামের পরিবারের দাবি, হতাশাগ্রস্ত হয়ে শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী।

পরে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তানের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাফটকে আনেন স্বজনরা। সব কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। স্ত্রী-সন্তানের মরদেরহ দেখতে সাদ্দামকে পাঁচ মিনিটের মতো সময় দেওয়া হয়।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, ‘কারাফটকে লাশ নিয়ে আসার পর আমরা ছয়জনকে প্রবেশ করতে দিই। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনো কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে, তার মরদেহ যদি স্বজনরা কারাফটকে আনেন, তাহলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে দেখতে দিই।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad