কক্সবাজারে উখিয়া ও বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে ভেসে আসছে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।
মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা-আরএসও’র মধ্যে সংঘর্ষ চলছে বলে জানা গেছে।
সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে মো. ইয়াসের নামের এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন। তিনি উখিয়া ১২ নম্বর শিবিরের বাসিন্দা। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, ‘গোলাগুলির শব্দ শোনার পর সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ভেতরে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিক থেকে উখিয়ার কয়েকটি সীমান্ত ও নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি শুরু হয়। থেমে থেমে গুলির শব্দ ভেসে আসায় প্রায় পুরো সীমান্ত এলাকার মানুষরাই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

কক্সবাজারের পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘রাতে ইউনিয়নের ধামনখালী, বালুখালী, রহমতের বিল, নলবনিয়া ও আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। একইসঙ্গে পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা থেকেও গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসে।’
স্থানীয় সাংবাদিক কামরুউদ্দিন মুকুল ও আলাউদ্দিন সিকদার জানান, রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে ধামনখালী সীমান্ত পয়েন্টে একটানা গুলির শব্দ শোনা যায়। দীর্ঘদিন শান্ত থাকা সীমান্তে হঠাৎ এমন গোলাগুলিতে এলাকাবাসীর মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে রাতভর ঘরে অবস্থান নিয়ে সতর্ক থাকেন।
সম্প্রতি মিয়ানমারের সরকারি জান্তাবাহিনীকে পরাজিত করে বাংলাদেশে সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সীমান্তের প্রায় ২৭২ কিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় বিদ্রোহী আরাকান আর্মি। এরপর থেকে সীমান্তের ভেতরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আরসা, আরএসওসহ রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ওই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, ৪ অক্টোবর রাতেও নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম চাকমাপাড়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে কয়েক ঘণ্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল।


