পোল্ট্রি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাণিসম্পদ খাত নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে দেশের সার্বিক কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসততা বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের পোল্ট্রি খাতকে রপ্তানিমুখী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
ক্ষুদ্র খামারিদের সংকটের কথা উল্লেখ করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ৯ টাকা খরচ হলেও খামারিরা তা ৭ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রতিটি ডিমে ২ টাকা লোকসানের এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্ষুদ্র খামারিরা টিকে না থাকলে বড় খামারিদের পক্ষেও টিকে থাকা সম্ভব হবে না।
ভ্যাকসিন আমদানির বিষয়ে আমদানিকারকদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাচ্চা উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই সাধারণ ভোক্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, সরকার খামারিদের শতভাগ সহযোগিতা প্রদান করবে এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে কাজ করবে।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ। ফিড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পোল্ট্রি খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের খামারি ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


