স্বাধীনতা যুদ্ধের দাবিদার আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালে যুদ্ধ না করে পালিয়ে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে তারা বারবার পালিয়ে সর্বশেষ ২০২৪ সালেও একইভাবে দেশ ছেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান।
তিনি বলেন, পক্ষান্তরে জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষকই ছিলেন না, তিনি সম্মুখসমরে বীরত্বের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন।
সোমবার বিকালে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে পলাশ উপজেলা ও ঘোড়াশাল পৌর বিএনপি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মঈন খান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মিথ্যা ইতিহাস শিখিয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব।’
তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীরা জ্ঞান-বিজ্ঞান শিখতে স্কুলে যায়, ভ্রান্ত রাজনীতি শেখার জন্য নয়।
অর্থনীতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছিল। গত ১৭ বছরেও তারা লুটপাট ও অর্থ পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে আবার ভঙ্গুর করে দিয়ে গেছে। জিয়াউর রহমানই অতীতে সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করে শূন্য ঝুড়িকে পূর্ণ ঝুড়িতে রূপান্তর করেছিলেন।’
জিয়ার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, তিনি নিজের পরিবার-পরিজন ফেলে রেখে দেশ ও জনগণের স্বার্থে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি পরিচ্ছন্ন, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের রাজনীতি করতেন। আজকের যে খাদ্য নিরাপত্তার কথা বলা হয়, তা নিশ্চিত করতে জিয়া ৫০ বছর আগেই প্রতিটি ইউনিয়নে খাদ্য গুদাম নির্মাণ করেছিলেন।
পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভুঁইয়া মিল্টন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, পলাশ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আল আমিন ভূইয়া এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন সোহেলসহ স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের নেতারা।


