ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে পুশইনের শিকার হওয়া অন্তঃসত্ত্বা ভারতীয় নারী সোনালী খাতুনকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সোনালী খাতুন ও তার আট বছরের সন্তান মো. সাব্বির শেখকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক গোলাম কিবরিয়া।
বিজিবি জানিয়েছে, গত ২৫ জুন বিএসএফ সোনালী খাতুনসহ ছয়জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি দাবি করে কুড়িগ্রাম সীমান্ত পেরিয়ে জোর করে ঠেলে দেয় বিএসএফ। এই আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
পুশইনের পর ওই নাগরিকেরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রবেশ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।
এরপর ২২ আগস্ট আদালতের নির্দেশে তাদের হাজতে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ছিলেন ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন এবং তার আট বছরের সন্তান।
মানবিক কারণে আদালত তাদের স্থানীয় জিম্মায় দেয় এবং কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সদর দপ্তর অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের প্রতি সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরে রেখে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ চালায়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, ‘বিএসএফের এই অমানবিক পুশইন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকট সৃষ্টি করছে এবং উভয় দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।’
‘বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানবিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেছি।’
বিজিবির প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে বিএসএফ এই ধরনের অমানবিক এবং আন্তর্জাতিক আইন-অবমাননাকারী কার্যক্রম বন্ধ করবে এবং সীমান্তে সৌহার্দ্যপূর্ণ, মানবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া বজায় রাখবে।


