বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত ৪ নেতার প্রতিবাদ মিছিল

বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত ৪ নেতার প্রতিবাদ মিছিল
ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চার নেতার নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঢাকা-৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চার নেতার নেতৃত্বে এক প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, কালো টাকা, প্রভাবশালী লবিং ও ভুয়া গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে বিএনপির হাইকমান্ডকে ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছে। এতে পুরান ঢাকার ত্যাগী নেতাদের প্রতি চরম অবমূল্যায়ন ও অপমান করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

শুক্রবার বিকালে লালবাগের ঘোড়া শহীদ মাজার থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩ নম্বর গেট ঘুরে ইরাকি মাঠ দিয়ে আজিমপুর ছাপরা মসজিদ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

ঢাকা-৭ আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ড প্রদক্ষিণ করে দুপুর ৩টার দিকে মিছিলকারীরা লালবাগ-আজিমপুর মোড়ে সড়ক অবরোধ করে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

মিছিলে দুই হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী অংশ নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন খোকন।

চার নেতার অভিযোগ, ঢাকা-৭ আসনে যে প্রার্থী মনোনীত হয়েছে তিনি স্থানীয় নন, পুরান ঢাকার রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কহীন এবং বহু বছর বিদেশে ছিলেন।

তাদের মতে, এই মনোনয়ন দলের নীতির পরিপন্থী এবং এতে আসনটি নির্বাচনে ঝুঁকিতে পড়বে।

মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরান ঢাকার স্থানীয় চারজন ত্যাগী নেতাকে বাদ দিয়ে ঢাকা-৬ আসনের ভোটার হামিদুর রহমান হামিদকে হঠাৎ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের দাবি ছিল পুরান ঢাকার কাউকে প্রার্থী করা। কিন্তু যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন না, বিদেশে ছিলেন; তার নামে মামলা নেই এবং পুরান ঢাকায় তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।’

আরও পড়ুন

তিনি প্রার্থীর কালো টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘মসজিদ-মাদ্রাসায় লাখ লাখ টাকা দিচ্ছেন, মানুষের কাছে টাকা দিচ্ছেন–এই অজস্র টাকার উৎস কী।’

মীর নেওয়াজ আরও বলেন, ‘ভুল প্রার্থী দিলে পুরান ঢাকায় আরেকজন “হাজী সেলিম” তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের আমলে যেভাবে ক্ষমতা ও টাকা ব্যবহার করে সেলিম টিকে ছিলেন, তেমনি নতুন প্রার্থীও কালো টাকা খরচ করে একই ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার বলেন, ‘যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি এলাকার ভোটার নন, স্থানীয় নন এবং গত ১৮ বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন।’

তার দাবি, পুরান ঢাকার রাজনীতিতে প্রার্থীর কোনো সক্রিয় উপস্থিতি ছিল না।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নেতা প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়েছেন।

ইসহাক সরকার বলেন, ‘তিনি মনোনয়ন পাবেন কি না সেটা বিষয় নয়, কিন্তু এত ত্যাগী নেতা থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতকে এনে হাস্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি সতর্ক করে জানান, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার কথাও বিবেচনা করছেন।

মনির হোসেন বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তারা জেল খেটেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন এবং শত শত মামলা মাথায় নিয়ে লড়াই করেছেন। কিন্তু ঘোষিত প্রার্থী এসব আন্দোলন থেকে দূরে ছিলেন, কখনো রাজপথে দেখা যায়নি।’

তার অভিযোগ, প্রার্থী আওয়ামী ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ব্যবসা করে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এবং পুরান ঢাকার প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা তোলেন। যা বিএনপির আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি জানান, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে স্বতন্ত্র নির্বাচন–সবই বিবেচনায় আছে।

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন খোকন বলেন, ‘তিনি ২০ বছর সফল কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মামলা-হামলা, নির্যাতন, আন্দোলন–সব করেছেন। অথচ ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বহিরাগতকে এনে চাপানো হয়েছে, যা তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অসম্মান।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, হাইকমান্ড পুনর্বিবেচনা করে ঢাকা-৭ আসনের যোগ্য, সৎ, ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতাদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেবেন।

চার নেতা বলেন, ভুল প্রার্থী মনোনয়ন দিলে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

তারা দাবি করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা, মামলা খাওয়া, নির্যাতিত, ত্যাগী এবং পুরান ঢাকার প্রকৃত বাসিন্দাদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনীত করা হোক। না হলে বিএনপির ঐক্য, তৃণমূলের আস্থা এবং ভোটের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad