কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজধানীর মাতুয়াইলে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার মামলায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিগুলো ‘অত্যাচার করে’ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ওই স্বীকারোক্তিগুলো এখনো কেন প্রত্যাহার করা হয়নি?’
রোববার (২০ এপ্রিল) সকালে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ফাইয়াজ নামের এক কিশোর শিক্ষার্থীর মুক্তির প্রশ্নে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও তৎকালীন আইজিপির সঙ্গে কথা বলে জুলাই আন্দোলনের মামলাগুলোতে যেন ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নিই। আমাদের জানানো হয়, অধিকাংশ মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, কেবল কয়েকটি হত্যা মামলার তদন্ত চলমান।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফাইয়াজের মামলাটি এমন একটি মামলা যেখানে দুইজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তারা যদি সেই জবানবন্দি প্রত্যাহার না করে, তাহলে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এটা পুরোপুরি পুলিশের এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। আইন মন্ত্রণালয় কিছু করতে পারে না যতক্ষণ না ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়।’
ওই জবানবন্দিগুলো সম্পর্কে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, পুলিশ অত্যাচার করে ওই স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আট মাসেও কেন সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়নি? এটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভাল বলতে পারবে। যদি প্রত্যাহার হতো, তাহলে মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে যেতে পারত।”
তিনি আরও জানান, ফাইয়াজের পরিবারের সদস্যদের কোনো ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়নি, বরং তাদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় মাতুয়াইল হাসপাতালের বিপরীত পাশে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ফাইয়াজ ১৭ আসামির মধ্যে ১৬ নম্বর আসামি। সে সময় তার বয়স ১৮ বছরের নিচে ছিল বলে জানায় তার আইনজীবী। ২০০৭ সালের ১৯ এপ্রিল জন্ম নেওয়া ফাইয়াজ ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ প্লাস পায় এবং বর্তমানে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী।


