আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নে দেশের জনগণ সরকারকে বাধ্য করবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন হলে ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর আয়োজিত সিরাত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘৫৩ বছর ধরে আমরা প্রহসনের নির্বাচন দেখে আসছি। দিনের ভোট রাতে বাক্সবন্দি, কেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক জয় ছিনিয়ে নেওয়া— এই সংস্কৃতি আমরা আর চাই না। এই পদ্ধতি বহু মায়ের বুক খালি করেছে, বহু জীবন পঙ্গু করেছে।’
‘আমরা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনপদ্ধতির প্রস্তাব করেছি। এই পদ্ধতি যদি কার্যকর হয়, তাহলে প্রতিটি ভোটারের ভোটের সঠিক মূল্যায়ন হবে। সব দলের প্রতিনিধি সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাবে। ফ্যাসিবাদী চরিত্র তৈরির প্রবণতা কমে যাবে। আর এ পদ্ধতি বাস্তবায়নে জনগণই সরকারকে বাধ্য করবে।’
সৈয়দ রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর ভারতের মিডিয়ায় সংখ্যালঘুদের নিয়ে যখন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হচ্ছিল, তখন ইসলামী নীতি-আদর্শে বিশ্বাসীরাই তাদের জানমাল ও উপাসনালয় রক্ষায় পাহারার দায়িত্ব নিয়েছিল। প্রশাসনিক ব্যবস্থা থমকে গেলে তারাই রাস্তায় নেমে ট্রাফিক সামলেছিল। এটিই আমাদের আদর্শের বাস্তবতা।’
‘অথচ গতানুগতিক রাজনৈতিক দলগুলো তখন চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কেস বাণিজ্য আর নিজেদের মধ্যে খুনোখুনিতে ব্যস্ত ছিল। তারা দেশের স্বার্থ নয়, নিজেদের স্বার্থকেই বড় করে দেখেছে।’
গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কাছ থেকে ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব পেয়ে আসছেন জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ‘কিন্তু আমরা এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সবসময় ন্যায়ের পক্ষেই ছিলাম। আর আজ আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে। বলা হয়, আমরা নাকি হঠাৎ কোথা থেকে এলাম!’
কোনো মন্ত্রিত্ব বা এমপিত্বের জন্য তাদের রাজনীতি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এই দেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা। আর এই কল্যাণ রাষ্ট্রের নীতি হলো ইসলাম।’


