সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। রোববার দেশের সকল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর এ স্বারকলিপি দেয় দলটি।
চলমান যুগপৎ আন্দোলনের দ্বিতীয় দফার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত একযোগে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকরা সরকারের পক্ষ থেকে স্বারকলিপি গ্রহণ করেন।
ইসলামী আন্দোলন প্রধান উপদেষ্টাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বারকলিপিতে জানায়, ‘জুলাই-আগস্টে সফল গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে এই সরকার কাজ শুরু করে এবং বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। তবে কিছু রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত প্রকাশের কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।’
এ ছাড়া, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছে দুটি প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
প্রথমত, ‘সাংবিধানিক আদেশ’ জারি করা এবং দ্বিতীয়ত, জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচনের পূর্বে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নইলে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অভ্যুত্থান ব্যর্থতা হতে পারে বলে মনে করে দলটি।
আসন্ন নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে স্বারকলিপিতে বলা হয়, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনব্যবস্থায় কালো টাকা, ভোটকেন্দ্র দখল, পেশিশক্তি প্রদর্শন এবং ভোটের অনিয়ম বন্ধ করার জন্য পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়। দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক এবং শিক্ষাবিদরা এই দাবির সঙ্গে একমত।
‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের’ বিচার এবং গণহত্যার বিচার দাবি করে স্বারকলিপিতে বলা হয়, ‘গত আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংস সাধন করেছে এবং বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে।’
ইসলামী আন্দোলনের দাবিগুলো হলো-১. আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের ওপর গণভোট আয়োজন করা।
২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা। ৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং ৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
ইসলামী আন্দোলন মনে করে, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।


