বান্দরবানের আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষকরা ক্লাস নিতে অনীহা প্রকাশ করায় একটি সরকারি স্কুল প্রায় বছর জুড়েই বন্ধ থাকে। অভিযোগ উঠেছে, ম্রো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকার ওই স্কুলের বাঙালি শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন নিলেও তারা উপজেলা সদরে কাটান অলস সময়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘লাওলিং ন্যাদয় কাম্পুক পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০। এর অবস্থান মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। জুম চাষ (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ ধরনের চাষাবাদ) নির্ভর ম্রো অভিভাবকরা স্কুল বন্ধের সুযোগে শিক্ষার্থীদের চাষবাস ও গৃহস্থলীর নানা কাজে লাগিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি মানবাধিকার প্রতিনিধিদল স্কুলটি পরিদর্শনে গেলে অনিময়ম ধরা পড়ে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানান। এখন ঘটনা অনুসন্ধানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মানবাধিকার প্রতিনিধিদলের নেতা উথোয়াইং গ্য মার্মা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের সরেজমিন পরিদর্শনে স্কুলটি প্রায় সারা বছর বন্ধ পড়ে থাকার বিষয়টি নজরে আসে। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, শুধুমাত্র বছরে দুই-একবার ‘‘শহর থেকে’’ কোনো শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুলটি পরিদর্শনে এলে তড়িঘড়ি করে এটিকে চালু করে শিক্ষার্থীদের হাজির দেখানো হয়।’

এ নিয়ে অভিভাবকরা প্রতিবাদ করেন না কেন, জানতে চাইলে তিনি দুর্গম পাহাড়ের বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, ‘শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকা জুম চাষী ম্রো অভিভাবকরা অসচেতনতার কারণে এতদিন এ নিয়ে কোনো অসন্তোষ বা অভিযোগ জানাননি।’
আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সাংকুলুক ম্রো জানান, তাদের প্রতিবাদে কাজ না হওয়ায় তারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল এইচ. খান টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ওইসব অভিযোগ জমা পড়লে ঘটনা তদন্তে উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মং সিনু মারমাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত কমিটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অবহিত হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। পুরো বিষয়টি নজরদারি করা হচ্ছে।’
মং সিনু মারমা জানান, প্রাথমিক তদন্তে তারা প্রায় বছরজুড়ে ওই স্কুলটি বন্ধ থাকার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।
আগের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কেন এতদিন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেননি জানতে চাইলে টাইমস অব বাংলাদেশকে মং সিনু মারমা বলেন, ‘এ বিষয়টিও তদন্তে এসেছে। এছাড়া এরইমধ্যে অভিযুক্ত তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী শিক্ষককে তলব করা হয়েছে।’
তিনি জানান, নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে যথাদ্রুত সম্ভব স্কুলটি পুরোদমে চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক সাজেদা খানম লাকী অবশ্য এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। ঢাকার প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষক ইন্সিটিটিউটে (পিটিআই) প্রশিক্ষণ নিতে আসা লাকী দাবি করে বলেন, ‘এসব অভিযোগ সঠিক নয়। স্থানীয় কিছু “ভুয়া সাংবাদিক” এসব গুজব ছড়াচ্ছে। স্কুলটি খোলা রয়েছে।’


