পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির গিরিফুল এলাকায় অপহৃত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী উদ্ধারে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করেছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) ভোর থেকে জেলা সদরের মধুপুর, পানখাইয়া পাড়া, চাবাই সড়ক এবং নোয়াপাড়ায় এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
এসপি আরো জানান, অভিযানকালে এলাকায় টহল জোরদার করার পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি-ঢাকা এবং খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি মহাসড়কে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অপহৃতরা চবির ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে রিশন চাকমা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) চবির শাখার সদস্য। বাকিরা হলেন– চারুকলা বিভাগের মৈত্রীময় চাকমা ও অলড্রিন ত্রিপুরা, নাট্যকলা বিভাগের দিব্যি চাকমা এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের লংঙি ম্রো।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা।
পিসিপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে ঘিরে ভিন্ন ভাষাভাষি জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’তে বেড়াতে গেলে
বুধবার (১৬ এপ্রিল) গিরিফুল এলাকায় পাহাড়িদের একটি সশস্ত্র গ্রুপ তাদের অপহরণ করে।
পিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি নিপুন ত্রিপুরা ওই অপহরণের জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করলেও সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা তা অস্বীকার করেছেন।
অপহৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত পিসিপি, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পাহাড়ি শিক্ষার্থী, পরিবার ও স্বজনরা। তারা শিক্ষার্থীদের সুস্থভাবে ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


