সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানকে ২৩২ রানে অলআউট করে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
লিটন দাসের চমৎকার ১২৬ রানের ওপর ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করেছিল। এরপর বাংলাদেশের বোলাররা দারুণ বোলিং করে স্বাগতিকদের সেই সুবিধা ধরে রাখতে সক্ষম হন।
পাকিস্তান বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে রোববার দিনের খেলা শুরু করে। তবে বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। বরাবরের মতো এবারও শুরুতেই আঘাত হানেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তিনি আব্দুল্লাহ ফজল এবং আজান আওয়াইসকে বিদায় করে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন। এর ফলে সফরকারী দল শুরুতেই বেশ চাপে পড়ে যায়।
এরপর পাকিস্তানের ইনিংসে আরও ধস নামান মেহেদী হাসান মিরাজ। এই অফ-স্পিনার মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই শান মাসুদ এবং সৌদ শাকিলকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। ফলে ৯৬ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান।
অবশ্য দল বেশ সংকটে পড়লেও পাকিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন বাবর আজম। দলে ফিরে বাবরকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। চাপের মুখে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে তার ৩১তম অর্ধশতক পূরণ করেন বাবর আজম। সালমান আলী আগার সাথে মিলে দলের ইনিংস পুনর্গঠনেরও চেষ্টা করেন।
তবে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। বুদ্ধিমত্তার সাথে বলের গতি কমিয়ে বাবরকে ৬৮ রানে আউট করেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বাবরকে আউট করলেন নাহিদ।
এরপর পাকিস্তানের সংকট আরও ঘনীভূত করেন তাইজুল ইসলাম। প্রথমে সালমান আগাকে ২১ রানে আউট করার পর তার একটি চমৎকার ঘূর্ণি বল মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে স্ট্যাম্পে আঘাত হানে। ফলে পাকিস্তান আরও বেশি বিপদে পড়ে যায়।
পাকিস্তান ১৫০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর বাংলাদেশ ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। তবে এরপর সাজিদ খান শেষ দিকে একটি পাল্টা আক্রমণ চালান। মাত্র ২৮ বলে ৩৮ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল দুটি চার ও চারটি ছক্কার মার। এর মধ্যে তাইজুলের এক ওভারেই তিনি টানা তিনটি ছক্কা হাঁকান, যা পাকিস্তানের রানের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করে।
অবশ্য বাংলাদেশ এরপর আর বেশি সময় নেয়নি। নাহিদ রানা সাজিদ খানকে আউট করে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে দিলে পাকিস্তানের ইনিংস ২৩২ রানে গুটিয়ে যায়।
বাংলাদেশের পক্ষে নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট।
প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিড সাথে নিয়ে বাংলাদেশ এখন সিলেটে তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছে।


