পাকিস্তানে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত শনিবার থেকে বালুচিস্তান প্রদেশজুড়ে জঙ্গিবিরোধী ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এদিন প্রদেশজুড়ে একাধিক সমন্বিত জঙ্গি হামলার পর এসব অভিযান শুরু হয়।
বুধবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়, নুশকি জেলা ও প্রদেশের অন্য এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ‘মপ-আপ’ অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। নুশকিতে শনিবার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি পুলিশ স্টেশন, বিচারিক কমপ্লেক্স, পুলিশ লাইনস, ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) অফিস এবং ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) ক্যাম্পে হামলার পর হামলাকারীরা কয়েকটি সরকারি ভবনেও আগুন ধরিয়ে দেয়।
রোববার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) দাবি করে, ভারত–সমর্থিত ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ সশস্ত্রগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিরা বালুচিস্তানের শান্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবন্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার ও পাসনি এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
এসব হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ সদস্য শহীদ হয়েছেন এবং নারী, শিশু ও বয়স্ক দিনমজুরসহ ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
একযোগে বড় পরিসরে এসব জঙ্গি হামলার পর প্রাদেশিক সরকারের নির্দেশে শহরের জনবহুল এলাকা- বাজার, স্কুল বন্ধ রাখা হয়। তবে তিন দিন পর মঙ্গলবার নুশকি শহর পরিষ্কার করে বাজারগুলো ফের খুলে দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা ডনকে জানান, ‘শনিবারই কঠোর ও সাহসী ক্লিয়ারেন্স অভিযানের পর সেনারা তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারীসহ ৯২ জঙ্গিকে হত্যা করেছে।’
এ ছাড়া, পাঞ্জগুর ও হারনায় এলাকায় ৪১ জঙ্গি নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করে রোববার আইএসপিআর জানায়, বালুচিস্তানে ‘চলমান অভিযানে’ নিহত সন্ত্রাসীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১৩৩ জনে পৌঁছেছে।
বালুচিস্তান জেলা পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ক্লিয়ারেন্স অভিযানে নতুন করে আরও চারজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। অভিযানে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) বেশ কয়েকজন সদস্য হতাহত হয়েছেন। তবে শহীদদের সঠিক সংখ্যা বা পরিচয় সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
আওয়ারান শহরেও অভিযানের খবর পাওয়া গেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ওয়াশুক এলাকায় পুলিশ স্টেশন ও একটি নাদরা অফিসে আগুন দেওয়ার পর সেখানেও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
আইজিপির শ্রদ্ধা
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলায় শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশটির ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোহাম্মদ তাহির বলেন, ‘বালুচিস্তানে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবন রক্ষায় বালুচিস্তান পুলিশ অতুলনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছে। সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে গিয়ে বহু কর্মকর্তা ও সদস্য শহীদ হয়েছেন।’
কেবল জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমেই প্রদেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ।
তাহির আরও বলেন, ‘আমাদের বাহিনী নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সময়োপযোগী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাবে।’
চীনের নিন্দা
এদিকে, বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বার্তা দিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান মঙ্গলবার বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বেইজিং পাকিস্তানকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে। আমরা নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করছি এবং আহতদের ও যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
‘চীন যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করে এবং সবসময়ই পাকিস্তানের পাশে থেকে সন্ত্রাস দমন, সংহতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমর্থন দিয়ে যাবে।’


