পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চার দফা দাবিতে চলমান ‘গণছুটি’ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তারা এই আন্দোলন চলাকালীন জরুরি বিদ্যুৎ সেবা অব্যাহত রাখারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মীরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্মস্থলে যোগ না দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পল্লী বিদ্যুতের সংস্কার, চাকরি বৈষম্য দূরীকরণ এবং হয়রানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধ করার দাবিতে এদিন সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘গণছুটি’ কর্মসূচি শুরু করেছেন।
আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, তাদের আন্দোলন রাষ্ট্রবিরোধী নয় এবং কোনো রাজনৈতিক ইন্ধনে নয়, বরং তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য তারা একত্রিত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য উপকেন্দ্রগুলোতে দুজন কর্মী থাকবেন। একই সঙ্গে, গত বছর জানুয়ারি মাস থেকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর শোষণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।
পরবর্তীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন, যার মধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন এবং প্রতিবেদন জমা দেওয়া সহ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল বলে অভিযোগ করেছে তারা।
সরকারের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘নিবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ একটি অত্যাবশ্যক পরিষেবা। এটি বিঘ্নিত করা আইনানুগ অপরাধ।’
সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনরত কর্মীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বছরের আন্দোলনের সময়ও দেশে ব্ল্যাক আউটের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সরকার কঠোরভাবে মোকাবেলা করেছিল।
এ ছাড়া, আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, তাদের কয়েক হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুতি, বদলি এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়েছে, যা এখনো চলমান।


