জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন না খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি।
বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
খলিলুর রহমান এ সময় বলেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী চার দশক আগে একই সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে যখন ইন্টারনেটের কোনো সুবিধা ছিল না, তখন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী অত্যন্ত সফলভাবে একই সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে এখন একাধিক দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা এবং কাজ পরিচালনা করা আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও নির্বিঘ্ন হয়েছে।
জাতিসংঘের এই শীর্ষ পদে বাংলাদেশের সফল প্রচারণার পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান তাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন যা এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে গতিশীল করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে অবিচল ও নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন জুগিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এমন দৃঢ় ও জোরালো সমর্থন না থাকলে যে পথ পাড়ি দিতে সাধারণত ১০ বছর সময় লাগে, তা মাত্র ১০ সপ্তাহে সম্পন্ন করা বাংলাদেশের পক্ষে কখনোই সম্ভব হতো না বলে মন্তব্য করেন খলিলুর রহমান।
এর আগে গত ১৩ মে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি যদি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন তবে সরকার থেকে এক বছরের ছুটি নেবেন।
সেই প্রসঙ্গের অবতারণা করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, আমি কি পদত্যাগ করব? না, পদত্যাগ করব না। আমার প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, পূর্ণকালীন দায়িত্ব হিসেবে এই পদটি গ্রহণের জন্য আমাকে এক বছরের রেহাই বা অব্যাহতি দেওয়া হবে। সুতরাং পদত্যাগই একমাত্র পথ নয়, আমি ছুটিতেও যেতে পারি।
গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জয়লাভ করেন খলিলুর রহমান। নির্বাচনে তিনি ৯৯টি ভোট পান, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিস পান ৯১টি ভোট।
আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল এই সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি এক বছর মেয়াদে সভাপতিত্ব করবেন।


