পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক।
শনিবার দুপুরে ভাউলাগঞ্জ ইউনিয়নের মেসার্স জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় উত্তেজিত জনতা ইউএনওর বডিগার্ড তৈবুলকে (৪৩) মারধর করে তার সরকারি অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। আহত বডিগার্ড বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ঘটনার সময় ওই ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, লাইনে থাকা অধিকাংশ চালকের কাছে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ড, রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এতে বৈধ কাগজপত্র থাকা চালকরা তেল পাচ্ছিলেন না এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ ইউএনওকে খবর দিলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ইউএনও সবুজ কুমার বসাক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘোষণা করেন, যাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র নেই তারা যেন লাইন ত্যাগ করেন। এ সময় নিয়ম ভঙ্গের দায়ে দুজন চালককে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা করার পরপরই হঠাৎ শতাধিক লোকের একটি মিছিল এসে ইউএনও এবং তার সঙ্গীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা দায়িত্বরত বডিগার্ডের ওপর চড়াও হয়ে তার সরকারি অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তিতে বডিগার্ড আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের সহায়তায় ইউএনও পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, ‘পাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর পেয়ে সেখানে যাই। কাগজপত্রবিহীন চালকদের চলে যেতে বলায় এবং দুইজনকে জরিমানা করায় শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমার বডিগার্ডের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।’
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালেক জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেহেতু বিষয়টি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা, তাই জড়িতদের খুঁজে বের করতে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


