দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সংস্কার প্রয়োজন উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা ইনসাফ কায়েম করতে চাই এবং দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই। সেই দুঃশাসন যেন ফিরে না আসে, সেজন্য আগামী ১২ তারিখ সংস্কারের পক্ষে “হ্যাঁ” ভোট দিতে হবে।’
শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী জিলা সরকারি বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
চাঁদাবাজদের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি ছেড়ে দিন, এটা হারাম। হারাম টাকা দিয়ে পরিবার ও সন্তানদের অকল্যাণ ডেকে আনবেন না।’
সম্পদের অভাব হলে সীমিত সম্পদ ভাগ করে খাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের আমানত নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।’
নির্বাচনী একটি ঐক্যের বিষয় তিনি বলেন, ‘যাকে যেখানেই ভোট দেওয়া হোক, ধরে নিতে হবে তার মাঝে ১১টি প্রতীকই বিদ্যমান। আমরা সবাই এক মায়ের সন্তানের মতো মিলেমিশে কাজ করব।’
বিশেষ করে চারটি আসনে দাঁড়িপাল্লা এবং দুইটিতে শাপলা কলি প্রতীকের কথা উল্লেখ করে কর্মীদের মনের অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
‘মায়েদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর জামায়াত জোট’
অপরদিকে এদিন সকালে ফেনীতে অনুষ্ঠিত আরেক নির্বাচনী জনসভায় শফিকুর রহমান নারীর অধিকার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের মা-বোন, স্ত্রী-কন্যারা ঘরের বাইরে কাজ করবে, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের বাইরে যেতে দেবে না—এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রোপাগাণ্ডা।’
নির্বাচনী উত্তেজনা ও সহিংসতা প্রসঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘শীতের দিনে মাথা গরম করলে চৈত্র মাসে কী করবেন? মাথা ঠান্ডা রাখুন। মা-বোনদের গায়ে হাত তুলবেন না। একজন মায়ের দীর্ঘশ্বাসও ভয়ংকর হতে পারে।’
বক্তব্যে তিনি বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ফেনী নদী নিয়ে কথা বলার কারণেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে।’ ফেনীবাসীকে আবরার ফাহাদের আত্মাকে হৃদয়ে ধারণ করে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে শফিকুর রহমান ফেনীর বিভিন্ন আসনের ১১-দলীয় জোট প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান এবং নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে ফলাফল নিশ্চিত করে ঘরে ফেরার নির্দেশ দেন।


