আফ্রিকার ফুটবলে মিসরকে দীর্ঘদিন ধরেই বলা হতো ‘অপূর্ণ সম্ভাবনার’ দল। সাতবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হলেও এটি তাদের মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ, আর এবারের আসরের আগে বিশ্বকাপের মূল পর্বে একটি ম্যাচও জয়ের স্বাদ পায়নি তারা।
কিন্তু এবার যেন বদলে গেছে গল্প। বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা অভিযানের পথেই এগিয়ে চলছে মিসর। আজকের জয়টি ছিল পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। বিশেষ করে পুরোপুরি ফিট না থাকা সত্ত্বেও মোহাম্মদ সালাহকে ঘিরে সবাই যেভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে, সেটিই ছিল এই সাফল্যের বড় ভিত্তি।
ড্যালাসে ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন মিসরের ফুটবলাররা। আর দলের কোচ হোসাম হাসান হাতে বিশাল এক মিসরীয় পতাকা নিয়ে উদযাপনের নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে সতীর্থদের সঙ্গে জয় উদযাপন করতে গিয়ে মোহাম্মদ সালাহর চোখে যেন আনন্দাশ্রুর ঝিলিক। ক্লাব ফুটবলে তিনি অসংখ্য সাফল্য পেয়েছেন, কিন্তু দেশের জার্সিতে এই অর্জনের গুরুত্ব তার কাছে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি।
পুরোপুরি ফিট না থাকলেও ম্যাচজুড়ে নিজেকে উজাড় করে খেলেছেন সালাহ। টাইব্রেকারে অসাধারণ স্নায়ু ধরে রেখে চিপ শটে পেনাল্টি থেকে গোলও করেছেন তিনি। এখন তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ–শেষ ষোলোর ম্যাচের আগেই পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠা।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। টাইব্রেকারের কথা ভেবে শেষদিকে গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ানকে নামানোর যে ঝুঁকি নেওয়া হয়েছিল, তা কাজে আসেনি। পেনাল্টিগুলোর কোনোটিতে তিনি তেমনভাবে হাত লাগাতে পারেননি।
হ্যারি শুটার ও লুকাস হেরিংটনের জন্য বিষয়টি আরও বেদনাদায়ক। দুজনই পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছিলেন, কিন্তু টাইব্রেকারে তাদের নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকেই মূল্য দিতে হয়েছে। বিশেষ করে মাত্র ১৮ বছর বয়সী হেরিংটনের জন্য এটি কঠিন এক মুহূর্ত।


