ভারতের কলকাতার চ্যানেল জি বাংলার ‘সারেগামাপা’ অনুষ্ঠানে দারুণ গায়কী দিয়ে সবার মন জয় করেছিলেন কণ্ঠশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেল। অবশ্য বেফাঁস কথা বলে সমালোচিতও হয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে মাদক সেবন, স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন, কনসার্টে মদ্যপ অবস্থায় ওঠার পাশাপাশি সিনিয়র শিল্পীদের নিয়ে ফেসবুকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে বারবারই সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন নোবেল। এসবের ধারাবাহিকতায় কয়েকবার জেলও খাটতে হয়েছে।
সম্প্রতি ফের আলোচনায় এসেছেন এ তরুণ সংগীত শিল্পী।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বটতলা এলাকা থেকে রাজধানীর ডেমরা থানা পুলিশ তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০১৯ সালে ‘সারেগামাপা’য় তৃতীয় হয়েছিলেন নোবেল। প্রতিযোগীতা চালাকালে তিনি নাকি বলেছিলেন, তার গান বিচার করার ক্ষমতা বিচারকদের নেই। এ বক্তব্যের পর তাকে প্রতিযোগীতা থেকে সাসপেন্ড করে জি বাংলা। অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগও ছিল তার নামে।
গোপালগঞ্জের পরিবহন ব্যবসায়ী বাবার ছেলে নোবেল পশ্চিমবঙ্গের কেমব্রিজ স্কুল ও কলেজ থেকে ও এবং এ লেভেল সম্পন্ন করেন। তার বিরুদ্ধে প্রথম ধর্ষণের মামলা হয় ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। চট্টগ্রামের এক তরুণী পাঁচলাইশ থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
একই বছর সালসাবিল মাহমুদকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। এ দম্পতি পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। ২০২৩ সালের ২০ মে নোবেলকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয় তার স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে। একই সঙ্গে সালসাবিল তার বিরুদ্ধে মামলাও করেন।
সালসাবিলের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায় তার। কিন্তু এর আগে পরে তার বিরুদ্ধে অনেক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর গুঞ্জন ছিল। তখন বলেছিলেন, তিনি আর বিয়ে করবেন না। তবে ২০২৩ সালের খুলনার মেয়ে ফুড ব্লগার ফারজানা আরশির সঙ্গে ফেসবুকে তিনটি ঘনিষ্ঠ ছবি পোস্ট করে জানান, তিনি তার স্ত্রী। যদিও সে মেয়ে পরবর্তীতে আর তার কাছে থাকেননি।
গতবছরের মাঝামাঝি এক নারীকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে নামাচ্ছেন—এমন ভিডিও ভাইরাল হয়। মেয়েটির বাবা-মা ভিডিও দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দিলে পুলিশ ডেমরার একটি বাসা থেকে নোবেলকে গ্রেফতার করে গত ১৯ মে রাত ১০টায়।
মদ্যপ অবস্থায় ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সুবর্ণজয়ন্তী কনসার্টে উঠে অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অনিয়ন্ত্রিত আচরণ করেন। উপস্থিত দর্শকদের হট্টোগোল, বোতল ও জুতা নিক্ষেপের কারণে তাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে নেয় আয়োজকরা।
জাতীয় সংগীত ও এর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। জেমসকে নিয়েও বাজে মন্তব্য করে সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন নোবেল। ফেসবুকে ‘চোর’ বলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১ জুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর ২৫(২)২৯ ধারায় মামলা করেছিলেন গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক ইথুন বাবু।
২০২১ সালের ১৭ মে সময় টিভির বিনোদন সাংবাদিক আল কাছির তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন করলে তাকে ফোন করে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেন। বলেন, ‘নোবেলকে তুই চিনিস? নোবেল কী শিল্পী? নোবেল কিন্তু ক্যাডার।’ ফোনে নিজেকে সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার আপন শ্যালক বলে উল্লেখ করেন। শুধু তা-ই নয়, সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সেই রিপোর্টারকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসার হুমকি দেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় জিডি করা হয়েছিল। গণমাধ্যম এ বিষয়ে তখন তার বক্তব্য জানতে চাইলে খারাপ ব্যবহার করেন তিনি।
বারবার তার পরিবার ও সাবেক স্ত্রী সালসাবিল তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে কয়েকদিন ভালো থাকেন তিনি। এরপর আবার নতুন করে শিরোনামে আসেন এ শিল্পী।
এমনকি ২০৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ‘নিজের ওপর ঘৃণা হয়, অনেক কিছু হারিয়েছি।’ তার এ বক্তব্যে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভেবেছিলেন তিনি হয়ত সংশোধন হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসবেন। কিন্তু তা আর হয়নি।


