নেপালে চলমান সহিংস পরিস্থিতিতে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নাম মনোনীত করেছেন আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা।
‘জেন জি’ আন্দোলনে প্রায় অচল কাঠমান্ডুতে দ্রুত স্বাভাবিকতা ও কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব করে বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, গত বুধবার প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী ভার্চুয়াল বৈঠক করেন পাঁচ হাজারেরও বেশি আন্দোলনকারী। তাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে জানানো হয়, নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি থাকবেন না।
এর পেছনে নানা ধরনের যুক্তি-তর্ক সামনে আনেন অংশগ্রহণকারীরা। শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতভাবে দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়। আন্দোলনকারীদের সিদ্ধান্ত পরে সেনাপ্রধানকে জানিয়ে দেওয়া হয়।
‘জেন জি’ আন্দোলনের অন্যতম নেতা রক্ষ্যা বাম বলেন, ‘আমরা প্রথমে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন শাহকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে প্রস্তাব করি। তবে তিনি সাড়া না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সবাই সুশীলা কার্কির প্রতিই সমর্থন দেন।’
‘সংখ্যাগরিষ্ঠ মত মেনে আমরা সুশীলা কার্কিকে নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রস্তাব করেছি। সেনাপ্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করার পর বৃহস্পতিবারই এ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক করা হচ্ছে’, বলেন তিনি।
কে এই সুশীলা কার্কি?
সুশীলা কার্কি ২০১৬ সালে নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি সুপরিচিত। তার দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের মধ্যে একজন মন্ত্রীকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
দ্য হিমালয়ান টাইমসের খবরে বলা হয়, ১৯৭৯ সালে বিরাটনগরে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন কার্কি। ২০০৯ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি পদে উন্নীত হয়ে ইতিহাস গড়েন।
তার দায়িত্ব পালনের সময়ে নেপালের তিন শীর্ষ পদ-রাষ্ট্রপতি, সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতি- সবই নারীদের হাতে ছিল। যা এখনও পাহাড়বেষ্টিত দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী অধ্যায়।

এদিকে, গত সোমবার দুর্নীতি ও ২৬টি সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে ‘জেন জি’ আন্দোলনে নামে নেপালের ছাত্র-জনতা। এক পর্যায়ে পুলিশি বাধায় তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। তিনদিনে প্রাণ হারান ২২ বিক্ষোভকারী।
এতে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে নিহতদের সহযোদ্ধারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পদত্যাগ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিসহ একাধিক মন্ত্রী।
তবুও শান্ত করা যায়নি কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি। সরকারি স্থাপনা, ঐতিহ্যবাহী পার্লামেন্ট ভবনসহ দেশের প্রভাবশালী নেতাদের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। এমন অবস্থায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা ও উত্তেজিত জনগণকে শান্ত করতে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় সেনাবাহিনী।


