সিস্টিক ফাইব্রোসিস: বেক্সিমকোর ওষুধে চিকিৎসাব্যয় কমবে ৯৬%

সিস্টিক ফাইব্রোসিস: বেক্সিমকোর ওষুধে চিকিৎসাব্যয় কমবে ৯৬%
সিস্টিক ফাইব্রোসিসের যুগান্তকারী ওষুধ আনছে বেক্সিমকো। ছবি: উইকিপিডিয়া
Advertisement
Advertisement

সিস্টিক ফাইব্রোসিস (সিএফ) রোগের যুগান্তকারী ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। বেক্সিমকোর এই জেনেরিক ওষুধ ‘ট্রিকো’ সিএফ রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাবে কমপক্ষে শতকরা ৯৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এতে এই রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না এবং নিজেদের জীবন রক্ষায় নতুন আশার পথ দেখবে।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেক্সিমকো ফার্মা জানায়, ট্রিকোর মাধ্যমে এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ব্যয় হবে বছরে ৬ হাজার ৩৭৫ ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ব্র্যান্ডেড ট্রিকাফটার দাম দিতে হয় বছরে ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে ব্র্যান্ডেড ওষুধ দিয়ে একটি শিশুর চিকিৎসা ব্যয়ে যা খরচ হবে, সেই দামে ট্রিকো দিয়ে ৫৮ শিশুর চিকিৎসা সম্ভব। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য বার্ষিক ব্যয় হবে ১২ হাজার ৭৫০ ডলার।

এতে আরও জানানো হয়, ওষুধটি ২০২৬ সালের বসন্তে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

সিস্টিক ফাইব্রোসিস একটি বিরল ও প্রাণঘাতী জেনেটিক রোগ। বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১ লাখ ৮৯ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত, যাদের মাত্র ৬০ শতাংশ রোগ নির্ণয় হয় এবং মাত্র ২৭ শতাংশ রোগী চিকিৎসা পান।

এ রোগের চিকিৎসায় মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ভার্টেক্স, ট্রিকাফটা নামে একটি যুগান্তকারী ওষুধ উদ্ভাবন করেছে। ইলেক্সাকাফটার, টেজাকাফটার ও আইভাকাফটার নামক তিন উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি ওষুধটি রোগীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ও জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। কিন্তু এর উচ্চমূল্যের কারণে অধিকাংশ রোগী ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।

আরও পড়ুন

এই প্রেক্ষাপটে, চিকিৎসা খরচ বহনে অক্ষম রোগীদের জন্য যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের অভিভাবকরা ‘কমিউনিটি পরিচালিত বায়ারস ক্লাব’ গঠন করেছেন, যার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে অনুষ্ঠিত নর্থ আমেরিকান সিস্টিক ফাইব্রোসিস কনফারেন্সে ট্রিকোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘জাস্ট ট্রিটমেন্ট’-এর মুখ্য সমন্বয়ক এবং ‘রাইট টু ব্রিদ’ গ্লোবাল ক্যাম্পেইনের নেত্রী গেইল প্লেজার বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ওষুধ তাকেই পড়ে আছে, কিন্তু দাম এত বেশি যে শিশুরা চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে। এখন সেই বাস্তবতা বদলাচ্ছে।’

বেক্সিমকো একই সময়ে বেক্সডেকো নামে আরেকটি ওষুধ বাজারে আনছে, যা ট্রিকোর একটি উপাদান আইভাকাফটারের জেনেরিক সংস্করণ। এর দাম নির্ধারিত হয়েছে প্রতি ট্যাবলেট ৫ ডলার।

বেক্সিমকো ফার্মার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রাব্বুর রেজা বলেন, ‘বিরল রোগের চিকিৎসা খুবই সীমিত এবং এতটাই ব্যয়বহুল যে, তা বেশিরভাগ রোগীর নাগালের বাইরে। আমাদের তৈরি সাশ্রয়ী মূল্যের ট্রিকো সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে অসংখ্য রোগীর জীবনে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে বিশ্বাস করি।’

মানবিক বিবেচনায় মালয়েশিয়াভিত্তিক থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্ক (টিডাব্লিউএন), যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘জাস্ট ট্রিটমেন্ট’ এবং বৈশ্বিক ‘রাইট টু ব্রিদ’ ক্যাম্পেইনের অনুরোধে বেক্সিমকো ফার্মা জেনেরিক ওষুধটির উদ্যোগ নেয়।

বেক্সিমকো ফার্মা বাংলাদেশের শীর্ষ ওষুধ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস-এফডিএসহ বিশ্বের স্বনামধন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এ প্রতিষ্ঠানের ৬০টিরও বেশি পণ্য দেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং বর্তমানে কোম্পানিটির পোর্টফোলিওতে ৫০০ এর বেশি ওষুধ রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর