‘এনবিআর-এর আন্দোলন অন্যায় ও অনৈতিক’

‘এনবিআর-এর আন্দোলন অন্যায় ও অনৈতিক’
গত মার্চে এনবিআর ভবনের সামনে আন্দোলনরত কর্মীরা। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজস্ব আদায় কার্যক্রম অন্যায় ও অনৈতিকভাবে মারাত্মক ব্যাহত করে আন্দোলনের নামে চরম দুর্ভোগ তৈরি করেছে, যা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে অন্তবর্তী সরকার। রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, রাজস্ব সংস্কারের কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ নজিরবিহীনভাবে গত ২ মাস ধরে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রম অন্যায় ও অনৈতিকভাবে ব্যাহত করে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে আন্দোলনের নামে চরম দুর্ভোগ তৈরি করেছে যা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।’

বাংলাদেশের বাজেট ব্যবস্থাপনায় উন্নয়নমুখী কার্যক্রম পরিচালনার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো দুর্বল রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা। রাষ্ট্রের প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের রাজস্ব সংগ্রহ অনেক কম। এর মূল কারণ হলো আমাদের রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনার নানা দুর্বলতা, অনিয়ম ও দুর্নীতি, বিবৃতিতে বলা হয়।

এ প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার সব অংশীজনের পরামর্শ অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।

এ পরিস্থিতিতে, অতি জরুরি আমদানি-রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের কার্যক্রম চলমান রাখার জাতীয় স্বার্থে সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন সব কাস্টমস হাউস, আইসিডি, বন্ড কমিশনারেট এবং শুল্ক স্টেশনসমূহের সকল শ্রেণির চাকরিকে অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন

এনবিআর ভবনের সামনে নিরাপত্তাকর্মীদের অবস্থান। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস

সংস্কারের বিরোধিতা ছাড়াও অর্থ বছরের শেষ দুই মাসে তারা রাজস্ব আদায় কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে। এই তথাকথিত আন্দোলন পরিকল্পিত ও দুরভিসন্ধিমূলক যা জাতীয় স্বার্থ এবং নাগরিক অধিকারের চরম পরিপন্থী বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দাবি বিবেচনায় নেয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয় এবং আলোচনায় আসার আহ্বান জানালেও তারা তা অগ্রাহ্য করে।

আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান না করে তারা আন্দোলনের নামে অনমনীয় অবস্থান নিয়ে ক্রমাগত দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করে চলেছে বলেও জানানো হয়।

অনতিবিলম্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে ফিরে যাবেন এবং  আইনবিরোধী ও জাতীয় স্বার্থ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসবেন। অন্যথায় দেশের জনগণ ও অর্থনীতির সুরক্ষায় সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।

এদিকে, ধর্মঘটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অচলাবস্থায় প্রতিদিন আমদানি-রপ্তানি খাতে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তারা এই সংকটের দ্রুত সমাধান দাবি করেন।

শনিবার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে দেশের সব ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট অফিসে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ছাড়া বন্ধ হয়ে যায় আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট কার্যক্রম।  আন্দোলনকারীরা চেয়ারম্যানের অপসারণ, ‘দমনমূলক বদলি আদেশ’ বাতিল এবং সংস্কার কমিটিতে তাদের প্রতিনিধি রাখার দাবি জানিয়েছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad