গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। অন্যথায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা ও সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি’ দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাশাপাশি হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন রাশেদ খান।
রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেওয়ার পর প্রেস ব্রিফিং করেন দলটির শীর্ষ নেতারা। গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান জানান, রোববারই নুরুল হক নুরকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ছিল। তবে শনিবার রাতে হঠাৎ কিছু নতুন জটিলতা দেখা দেওয়ায় রাতেই তার বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। কাজেই তাকে এখনই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না, তাকে আরও কিছু দিন হাসপাতালে থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘নুরের নাকের ভাঙা হাড়ে জটিলতা রয়েছে। চোয়ালের ভাঙা হাড় ফাঁকা হয়ে রয়েছে। এছাড়া লিভারে জটিলতা রয়েছে।’

এ সময় রাশেদ খান বলেন, ‘নুরের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ করা উচিত।’ সরকার নুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও এ বিষয়ে তালবাহানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাশেদ বলেন, ‘নুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার ব্যপারে সরকারের ঘোষণাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। প্রয়োজনে দলের পক্ষ থেকে এবং পরিবারের উদ্যোগে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে।’
এদিকে নুরুল হক নুরসহ দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আগামীতে আপনাদেরও এমনভাবে হাসপাতালে আসতে হতে পারে। জুলাই যোদ্ধাদের ওপরও হামলা হতে পারে। সরকারকে আমরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি, এরমধ্যে হামলাকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ৪৮ ঘণ্টা পর কঠোর কর্মসূচি দেব। সেই কর্মসূচি হতে পারে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও, বা সচিবালয় ঘেরাও। এই হামলার সাথে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জড়িত। তার দায় রয়েছে। এজন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকেও পদত্যাগ করতে হবে।’
গত ২৯ আগস্ট ঢাকার বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মারধর ও লাঠিপেটায় আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনো তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।


