দফায় দফায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে গাজায় ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬২ ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে শুধু গাজা সিটিতেই ৪৯ জন নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা দখলে নিতে শনিবার দিনভর একের পর এক বহুতল ভবন, জাতিসংঘ পরিচালিত শরণার্থী কেন্দ্র ও সরকারি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এতে এক রাতের মধ্যে গাজা সিটি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছন অন্তত ছয় হাজার ফিলিস্তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, শনিবার গাজা সিটির শাতি শরণার্থী ক্যাম্পে জাতিসংঘ পরিচালিত তিনটি স্কুলে বোমা বর্ষণ করা হয়। স্কুলগুলোতে হাজারো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন।
হামলা থেকে বেঁচে ফিরেছেন ফিদা আল-জা’আনিন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু জিনিসপত্র নিয়ে বাইরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে বোমা পড়ে। আমরা এখন তাবুতে আশ্রয় নিয়েছি। বাচ্চারা না খেয়ে আছে। এমনকি তাদের জন্য কোনো নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও অবশিষ্ট নেই।’
একই দিন বুর্জ আল-নূর নামের একটি বহুতল ভবন ধ্বংস করে ইসরায়েলি বাহিনী। সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় ওই ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।
গাজা সিটির বাইরে মধ্য গাজায় আল-ওয়াদি এলাকায় মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারান সাত ফিলিস্তিনি। বুরেইজ শরণার্থী ক্যাম্প ও ফিলিস্তিন স্টেডিয়ামে বাস্তুচ্যুতদের তাবুতে বোমা বর্ষণে নিহত হন পাঁচজন। দক্ষিণের খান ইউনুসে ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি অভিযানের গাজা সিটির প্রায় নয় লাখ মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। অনেকে বাড়িঘর, শরণার্থী আশ্রয় ছেড়ে পশ্চিম গাজা কিংবা দক্ষিণের রাফায় পালিয়ে গেছেন। আবার অনেকে আশ্রয়, খাবার ও নিরাপত্তার অভাবে ফের শহরে ফিরে আসছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান প্রতি ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর গাজায় টিকে থাকা ভবনগুলো লক্ষ্য করে বোমা ফেলছে। কাজেই গাজাবাসীরা পালানোর সুযোগও পাচ্ছেন না। হামলার ধরণ ও গতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, গাজা সিটির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় চরম চাপ তৈরি করাই ইসরায়েলি সেনাদের উদ্দেশ্য।


