নেপালের নবগঠিত সরকার ভারতের সঙ্গে ‘উন্মুক্ত হৃদয়, স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও একটিমাত্র স্বচ্ছ এজেন্ডা’ নিয়ে যোগাযোগ স্থাপন করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো নেপালের অর্থনৈতিক রূপান্তর।
শনিবার নয়াদিল্লি সফরকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, আন্তসীমান্ত সংযোগ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানাল জানান, নেপালের নতুন সরকার রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের ঊর্ধ্বে উঠে অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে একটি বাস্তবসম্মত এবং উন্নয়নমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃত স্বাধীনতা মানে আমাদের যৌথ সীমানাগুলো অত্যন্ত কার্যকরী সেতু হিসেবে কাজ করবে, কোনো হতাশাজনক বাধা হিসেবে নয়। কোনো ধরনের উগ্র-জাতীয়তাবাদী বাগাড়ম্বরে না জড়িয়ে, আমরা পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য শান্ত, তথ্য-প্রমাণ ও উপাত্ত-ভিত্তিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
উদীয়মান ভারতের দিকে দৃষ্টি
কাঠমান্ডুর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের পাশাপাশি অন্য বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ চীনের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে তাদের মূল অগ্রাধিকার এখন অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
যদিও কালাপানি এবং লিপুলেখ সীমান্ত অঞ্চল নিয়ে অতীতে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানাল সেই দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা ২০ শতকের ভূরাজনীতির বিকৃত ও অতিসংবেদনশীল লেন্স দিয়ে ভারতকে দেখতে চাই না। আমরা নেপাল-ভারত সম্পর্কের পুরো ভাষাটাই ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণভাবে উন্নয়ন ও কূটনীতির দিকে নিয়ে যেতে চায়।’
ভারতকে একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরাশক্তি হিসেবে বর্ণনা করে খানাল বলেন, নেপাল ভারতের এই প্রবৃদ্ধির গল্প থেকে উপকৃত হতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন সীমান্তের ওপারে তাকাই, তখন একটি উদীয়মান ভারতকে দেখতে পাই—এমন এক ভারত যা বিশ্বমঞ্চে নিজেকে একটি গতিশীল, দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পাওয়ারহাউস হিসেবে পুনর্প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমরা এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিরলস বাস্তবায়নের ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই। বিনিময়ে, আমরা একটি উদীয়মান নেপালের শক্তি ও আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে আসছি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকারের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে সাধারণ নাগরিকদের জন্য বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করা।
কাগজের কলমে করা প্রতিশ্রুতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যকার ব্যবধান দূর করে বিমূর্ত রাজনৈতিক বিবৃতির বাইরে গিয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনকারী দৃশ্যমান ফলাফল এনে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য, যোগ করেন তিনি।


