নেত্রকোনার মদনে মাদ্রাসার শিক্ষকের হাতে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বুধবার সকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে আসামি শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন।
বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন শেষে ময়মনসিংহ র্যাবের পক্ষ থেকে তাকে নেত্রকোনা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৪ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক।
ভুক্তভোগী শিশুটিও একই এলাকার বাসিন্দা। শিশুটির বাবা তাদের ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ। জীবিকার তাগিদে ১১ বছর বয়সী ওই শিশুর মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো।
অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ২ অক্টোবর বিকাল অনুমান সাড়ে ৩টার দিকে মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর শিক্ষক আমান উল্লাহের আদেশে ভুক্তভোগী শিশুটি ঝাড়ু দিয়ে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের বারান্দা পরিস্কার করতে থাকে। সেই মুহুর্তে ওই শিক্ষক শিশুটিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এতে সে অন্ত্বঃসত্তা হয়ে পড়ে এবং বিষয়টি পরিবার টের পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম উঠে আসে। পরে শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তা সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা গত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিক্ষক আমান উল্লাহকে অভিযুক্ত করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার ১৩ দিন পর শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলো র্যাব।
অবশ্য অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ার আগে সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, শিশুটিকে অন্য কেউ ধর্ষণ করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। দেশের আইনের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে বলেন, ‘তদন্ত এবং মেডিকেল রিপোর্টে আমি দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি মাথা পেতে নেব।’


