নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় খাবারে বিষ মিশিয়ে গৃহবধূ রিনা আক্তারকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী পিয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মরদেহ ফেলে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার কেন্দুয়া উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কুনাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিনা আক্তার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাশুঁরী দুর্গাশ্রম গ্রামের জাকির মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী পিয়েল মিয়ার বাড়ি কেন্দুয়ার কুনাপাড়া গ্রামে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিনা একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। পিয়েলের চাচাতো ভাই আলালের বাসায় তাদের পরিচয় হয়। পরে পরিবারের সম্মতিতে প্রায় তিন মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের ১৫ দিন পর থেকে স্বামী তাকে অপছন্দ করতে শুরু করেন এবং ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
বুধবার ইফতারের পর রিনা বিষপান করেছে বলে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পিয়েলের বড় ভাই পিয়াস ফোনে মেয়েটির বাবাকে জানান। তাকে প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, তারা হাসপাতালে পৌঁছালে স্বামী পিয়েল ও তার পরিবারের সদস্যরা মরদেহ হাসপাতালের সামনে রেখে পালিয়ে যান। তাদের অভিযোগ, রিনা আত্মহত্যা করেননি; তাকে হত্যা করে বিষপানের নাটক সাজানো হয়েছে।
নিহতের বাবা জাকির মিয়া টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমার মেয়ে বিষ পান করেনি। বিয়ের পর থেকে তাকে নির্যাতন করা হতো। তালাক দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। তারা মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি বিচার চাই।’
অভিযোগের পর কুনাপাড়া গ্রামে পিয়েলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির গরু-ছাগল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঘরগুলোতে তালা ঝুলছে।
পিয়েলের আপন চাচি ও সাবেক ইউপি সদস্য লাকি আক্তার টাইমসকে বলেন, ‘ইফতারের পর তিনি নামাজে ছিলেন। পরে শুনেছেন পিয়েলের স্ত্রী বিষপান করেছে এবং হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি মাকসুদ টাইমসকে জানান, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ফেলে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা চলে গেছেন বলে জানা গেছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


