ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি লন্ডন থেকে কমনওয়েলথ সেক্রেটারি-জেনারেল অনারেবল শার্লি বচওয়ে জানান, বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সংস্থার পক্ষ থেকে সাবেক ঘানা প্রেসিডেন্ট নানাআকুফো-অ্যাডোর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের দল পাঠানো হবে।
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলে আরও থাকবেন মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী জেফ্রি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহদ রাজি। এছাড়া অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, কানাডা, ফিজি, মরিশাস, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, উগান্ডা, যুক্তরাজ্য ও জাম্বিয়ার প্রতিনিধিরাও দলে থাকবেন।
আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলে রাজনীতি, আইন, সংবাদমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন প্রশাসনে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। তাদের সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সচিবালয়ের একটি দল। ওই দলের নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।
গত ২১ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে কমনওয়েলথ জানায়, বাংলাদেশে নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না- তা স্বাধীনভাবে যাচাই করাই পর্যবেক্ষক দলের মূল দায়িত্ব।
‘বাংলাদেশ যে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে মানদণ্ড ও জাতীয় আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেসবের আলোকে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে পর্যবেক্ষক দল প্রতিবেদন দেবে।’
কমনওয়েলথের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নও বাংলাদেশে পর্যবেক্ষক পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে। ২৭টি ইইউ সদস্যরাষ্ট্রের পাশাপাশি নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডা থেকে প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক ফেব্রুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশে আসবেন। ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস।
ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট থেকেও অন্তত সাতজন সদস্য থাকবেন। তারা হলেন- অস্ট্রিয়ার লুকাস ম্যান্ডল, রোমানিয়ার লোরান্ত ভিনজে, চেক প্রজাতন্ত্রের তোমাশ জদেখভস্কি, স্পেনের লেইরে পাখিন, রোমানিয়ার শেরবান দিমিত্রিয়ে স্টুর্দজা, আয়ারল্যান্ডের মাইকেল ম্যাকনামারা এবং নেদারল্যান্ডসের ক্যাটারিনা ভিয়েরা।
ইইউ জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষকরা আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সফর সমন্বয়ে সহায়তাকারী জ্যেষ্ঠ সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানান, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে পর্যবেক্ষক আসার আগ্রহ প্রতিদিনই বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের এই আগ্রহ অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন। আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারব বলে তারা বিশ্বাস করছে।’


