নির্বাচনে পূর্বনির্ধারিত তথাকথিত ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর যে ধারণা তা বাংলাদেশে টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলির প্রার্থী সারজিস আলম। এ সময় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে পূর্ব নির্ধারিত হেভিওয়েটের যে চিন্তা বা কনসেপ্ট এটা আর এই বাংলাদেশে টিকবে না। বিভিন্ন বড় বড় রাজনৈতিক দলের বড় বড় সো কল্ড হেভিওয়েট নেতা যারা ছিল এবার তাদের আপনারা ভূমিধস পতন দেখতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।’
রোববার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পঞ্চগড়-১ আসনের অমরখানা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চতুর্থ দিনের মতো গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বিপ্লব মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। মানুষের মধ্যে পরিবর্তন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, মানুষ এখন শুধু ভোটের দিনের অপেক্ষায় আছে। প্রত্যেকটি মানুষ জুলুমের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, হুমকি-ধামকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মামলা বাণিজ্যের বিরুদ্ধে মানুষ এবার রায় দেবে।
এ ছাড়া এক বছর তিন মাস ধরে যারা জুলুম করেছে, তারা এখন ফেরেশতা সাজার চেষ্টা করছে—এমন দাবি করে তিনি জানান, মানুষ গিরগিটি চরিত্রের এসব রাজনীতিবিদকে চিনে রেখেছে। ভোটের সময় মানুষ সঠিক জায়গায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।
এনসিপির এই নেতা আশ্বস্ত করেন, শুধু পঞ্চগড়-১ আসন নয়, সারা দেশেই ইনসাফের পক্ষে, ভালো মানুষের পক্ষে এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে ১০ দলীয় জোটের ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ বিজয়ী হবে এবং আগামীতে সরকার গঠন করবে।
এ সময় হুমকি-ধামকির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এখনো আমার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী স্থানীয় ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি জামায়াতের একজন কর্মীকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে–ধানের শীষে ভোট না দিলে নির্বাচনের পরে দেখে নেওয়া হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘হুমকি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, তাদের পতন শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়ংকরভাবে হবে। বাংলাদেশের মানুষ আর আগের জায়গায় নেই।’
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘মানুষকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে দিন। জনগণ যেদিকে থাকবে, আমরাও সেদিকেই থাকব। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা নির্বাচনে বিজয়ী হব।’


