জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ব্যবহারে জবাবদিহিতা ও সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন।
জাতিসংঘ দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাতিসংঘ দিবস: জাতিসংঘ সংস্কারের পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন’ শীর্ষক একটি সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি), হুসাইন অ্যান্ড হুসাইন (এইচঅ্যান্ডএইচ) ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন (ইউএনএ)–লুটন শাখা (ইউকে)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি জাতিসংঘের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ‘জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। বৈশ্বিক শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা কেবল শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর নয় বরং সব সদস্য দেশের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয়, নিরপেক্ষ ও গঠনমূলক অবস্থান থেকে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর।‘
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্গঠনের এখনই উপযুক্ত সময়।’
ইউএনএ লুটনের সেক্রেটারি ডেভিড চিজম্যান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি জাতিসংঘের ভেটো প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা এবং বৃহত্তর বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
সংস্থাটির সভাপতি নাজিয়া খানম তরুণ প্রজন্মকে জাতিসংঘের মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান এবং নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এসআইপিজি’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো অ্যাম্বাসেডর সুফিউর রহমান বলেন, ‘জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত সংস্কার প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে লুটনের বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য প্রচারে অবদানের জন্য ডাকবক্স ফাউন্ডেশন, এইচঅ্যান্ডএইচ ফাউন্ডেশন, পাবলিক স্পিকিং ফাউন্ডেশন এবং প্রাণ–আরএফএল গ্রুপকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সেমিনারে কূটনীতিক, একাডেমিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা এ আয়োজনকে জাতিসংঘ সংস্কার ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ একটি আলোচনা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করেন।


